বনশুয়োরের আক্রমণে আক্রান্ত।
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: প্রতি বারের মতো এ বারেও পলাশ আগুন ছোটাচ্ছে বাঁকুড়ায়। লেখক-কবিরা তার সৌন্দর্য্য বর্ণনায় মেতেছেন। কিন্তু এর পরেও মন ভালো নেই জেলার জঙ্গল মহলের মানুষের। প্রকৃতির সৌন্দর্যে বার বার হানা দিচ্ছে কিছু অসাধু মানুষ। শাল-পলাশ-মহুয়ার বন আজ দাউ দাউ করে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা রোধে বনদফতরের তরফ থেকেও কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ করছেন গ্রামবাসীরা।

জঙ্গলে আগুন লাগানোর পর প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। জঙ্গলে আগুন লাগানোর ফলে বন্যপ্রাণীরা বেরিয়ে আসছে জঙ্গল ছেড়ে। এর জেরেই বৃহস্পতিবার বনশুয়োরের আক্রমণে প্রাণ গেল বাঁকুড়ার সারেঙ্গা এলাকার মিলন মাণ্ডি নামে এক কৃষকের। গুরুতর আহত কালাচাঁদ মুর্মূ নামে আরও এক জন। স্থানীয়দের তৎপরতায় দু’জনকে সারেঙ্গা গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এঁদের মধ্যে কালাচাঁদ মুর্মূকে সারেঙ্গা ব্লক  প্রাথমিক কেন্দ্রে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও গুরুতর আহত মিলন মাণ্ডিকে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সারেঙ্গা থেকে বাঁকুড়া আসার পথে মিলন মাণ্ডির মৃত্যু হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বেলাটিকরির বাসিন্দা মিলণ মাণ্ডি গ্রামের মাঠের দিকে যাওয়ার সময় একটি বড়ো বনশুয়োরের মুখোমুখি পড়ে যান। তাকে আক্রমণ করে ওই বনশুয়োর। এর পর তাঁর চিৎকার শুনে পাশাপাশি কয়েকজন ছুটে গিয়ে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। গ্রামেরই যুবক কালাচাঁদ মুর্মূ মিলনবাবুকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁকেও আক্রমণ করে বনশুয়োর।

এই জঙ্গলেই লাগছে আগুন।

কালাচাঁদবাবুর অভিযোগ, “জঙ্গলে যে ভাবে একশ্রেণীর মানুষ আগুন লাগাচ্ছে, ফলে বনের পশুরা বনছেড়ে লোকালয়ে চলে আসছে। আর ভয়ে তারা মানুষকে আক্রমন করছে।” এই বনশুয়োর গুলি রানিবাঁধের বারোমাইল জঙ্গল, ও পাশাপাশি জঙ্গল এলাকা থেকে আগুনের তাড়াখেয়ে এই এলাকায় চলে আসছে বলে এলাকাবাসী দাবি করছেন।

আরও পড়ুন সুন্দরবনের মুকুটে আরও একটি সংযোজন, উদ্বোধন হল দীর্ঘতম সেতুর

স্থানীয়দের দাবি, মিলন এবং কালাচাঁদবাবু ছাড়াও আরো দু’জন বনশুয়োরের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন।  জঙ্গলে আগুন লাগানোর ঘটনা যে বন্ধ হওয়া দরকার সে কথা বলছেন বনদফতরের আধিকারিকরা। সারেঙ্গার পিড়রগাড়ি রেঞ্জ অফিসের এক আধিকারিক জানান এই বিষয়ে বলেন, “জঙ্গলে যাতে আগুন লাগানো না হয়, সেই বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।” সেই সঙ্গে পশুশিকারও যাতে বন্ধ করা যায়, সে বিষয়ে নজর দেওয়া হবে বলে জানান ওই আধিকারিক।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here