কলকাতা: দু’দিন আগেই তৃণমূলের উনিশ নেতামন্ত্রীর সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে। বুধবার এই খবরের ‘পূর্ণ সত্য’ নিয়ে সামনে এল তৃণমূল। তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিজেপি, বাম ও কংগ্রেস অর্ধসত্য প্রচার চালাচ্ছে।

যে ১৯ জনের নাম গত সোমবার প্রকাশ্যে এসেছিল, তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন— ফিরহাদ হাকিম, ব্রাত্য বসু, অরূপ রায়, শিউলি সাহা এবং মলয় ঘটক বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই ‘সম্পূর্ণ’ তালিকা তুলে ধরেন ব্রাত্য। তিনি অধীর চোধুরী, সূর্যকান্ত মিশ্র-সহ বিরোধী দলের একাধিক নেতার নাম ওই তালিকায় রয়েছে বলে দাবি করেন।

বুধবারের বৈঠকে হাজির তৃণমূলের পাঁচ মন্ত্রীকেই ‘আক্রমণাত্মক’ ভঙ্গিমায় দেখা গিয়েছে। একই সঙ্গে ফিরহাদের বক্তব্য, ‘‘সুযোগ পেয়েছেন, সকলেই অপমান করছেন।’’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘‘এটা জনস্বার্থ মামলা নয়। রাজনৈতিক স্বার্থে করা মামলা।’’ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমদের দাবি, ‘‘রোজগার বাড়ানো কোনো অন্যায় নয়। সম্পত্তি কেনাও কোনো অন্যায় নয়।’’

এসএসসি নিয়োগ মামলায় দুর্নীতির গ্রেফতার হওয়া পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ফিরহাদ। বলেন, ‘‘পার্থ যা করেছেন, তাতে আমরা সবাই লজ্জিত। এই পার্থকে আমি চিনতাম না। তার মানে এই নয় যে, তৃণমূলের সবাই চোর।’’

তিনি বলেন, ‘‘কম বয়স থেকে ব্যবসা করছি। ব্যবসার টাকা থেকে সংসার চলে। সম্পত্তি নিয়ে কোনো তথ্য লুকোইনি।’’ ফিরহাদের আরও দাবি, ‘‘এই সব অভিযোগই অর্ধসত্য। এই জনস্বার্থ মামলায় সিপিএম এবং কংগ্রেসের অনেক নেতারও আছেন।”

এর পরেই ব্রাত্য একটি তালিকা ধরেন। তিনি জানান, আদালতের পর্যবেক্ষণ নিয়ে কিছু তাঁদের কিচ্ছু বলার নেই। কিন্তু জনস্বার্থ মামলার রায়ের পুরো অংশ কেন তুলে ধরা হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। এর পর রায়ের কপি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘এটা ঠিক, ১৯ তৃণমূল নেতামন্ত্রী এবং বিধায়কের নাম রয়েছে। এটা সত্যি। কিন্তু ওই একই রায়ে রয়েছে অধীরর়ঞ্জন চৌধুরীর (প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি) নাম। তাঁর সম্পত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। তার পর রয়েছে সূর্যকান্ত মিশ্র (সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক এবং প্রাক্তন মন্ত্রী), অশোক ভট্টাচার্য (বামফ্রন্ট আমলের মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র), কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় (প্রাক্তন মন্ত্রী, সিপিএম নেতা), আবু হেনা (রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং কংগ্রেস নেতা), সিপিএম নেতা ধীরেন বাগদী, চন্দন সাহার মতো অজস্র নাম।’’

আরও পড়তে পারেন

বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশ, যেখানে খুন করেও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ভয় নেই

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন