এক রাতেই ঘাটতি মিটিয়ে নিল দক্ষিণবঙ্গ, আগামী তিন-চার দিন জোর বৃষ্টির পূর্বাভাস

0
779

কলকাতা: মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমুল পালটে গেল আবহাওয়া। সোমবার বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টির জন্য হাপিত্যেশ করে বসেছিলেন কলকাতা তথা দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টিপ্রত্যাশী মানুষ। কিন্তু সোমবার বিকেলের পর থেকেই বদলে গেল আবহাওয়া। টানা বারো ঘণ্টারও বেশি সময়ে ধরে চলা বৃষ্টিতে জানান দিল বর্ষা অবশেষে হাজির। সেই সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গে ক্রমশ বাড়তে থাকা ঘাটতি মিটিয়ে নিয়েছে বর্ষা।

সোমবার স্থানীয় একটা বজ্রগর্ভ মেঘ থেকেই বৃষ্টির সূচনা হয়েছিল। কিন্তু তার সঙ্গে যোগ হল বর্ষার স্বাভাবিক বৃষ্টিও। এর কারণ, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গে নেমে আসা মৌসুমী অক্ষরেখা। সেই সঙ্গে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত আরও একটি অক্ষরেখা ছিল। এই দুইয়ের আক্রমণে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টির পরিমাণ ৯৩.৬ মিমি। উল্লেখ্য, ২০১৩-এর পরে জুনে এই প্রথম এত বৃষ্টি হল কলকাতায়।

রাতভর চলা এই বৃষ্টির ফলে জলমগ্ন হয় কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা। উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতা, সর্বত্রই এক জলছবি। যান চলাচলে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি, প্রভাব পড়ে ট্রেন এবং বিমান চলাচলেও। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি ধরায় শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকেই জল নেমে যায়।

এই বৃষ্টি স্বস্তির পাশাপাশি ঘটিয়েছে দুর্যোগও। বাজ পড়ে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় মৃত্যু হয়েছে আট জনের। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া দফতর বলছে, এই বৃষ্টি এখন চলবে। বুধবারও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি রেখেছে হাওয়া অফিস। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি পৌঁছে গিয়েছিল ৪৫ শতাংশে, সেই ঘাটতি এখন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র চার শতাংশে। আবহাওয়ার পরিভাষায় যা স্বাভাবিক বলেই গণ্য হয়।

কলকাতার পাশাপাশি সোমবার সারা রাত ভারী বৃষ্টি হয় দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায়। সোমবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি পরিমাণ নীচে দেওয়া হল:

বাঁকুড়া– ১৭৭ মিমি

ডায়মন্ড হারবার– ১৪২.৬ মিমি

দিঘা– ১৪১.৬ মিমি

হলদিয়া– ৯০ মিমি

মেদিনীপুর– ৮৪ মিমি

পানাগড়– ৮০ মিমি

বহরমপুর– ৬৬ মিমি

আসানসোল– ৬২ মিমি

বর্ধমান– ৬১ মিমি

ক্যানিং– ৬০ মিমি

বোলপুর– ৫৭ মিমি

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here