বৃষ্টি কমলেও জল ছাড়ছে একাধিক জলাধার, জেলায় জেলায় বন্যা পরিস্থিতি

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিম্নচাপ দুর্বল হতে হতে সরে গিয়েছে ঝাড়খণ্ড। কিন্তু তার ভয়ংকর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দক্ষিণবঙ্গে। একাধিক জলাধার থেকে বিপুল হারে জল ছাড়া শুরু হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত

মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে যে দাপটের সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছিল, তার তুলনায় শুক্রবার অনেক কম বৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে আসানসোলে (৮২ মিলিমিটার)। বৃষ্টির নিরিখে এর পরেই রয়েছে পুরুলিয়া (৫১ মিলিমিটার)।

Shyamsundar

কিন্তু অসম্ভব বৃষ্টি হয়েছে ঝাড়খণ্ডে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাঁচিতে ১৮২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে দামোদর অববাহিকা অঞ্চলে। এর ফলেই দামোদর এবং তার শাখা নদীগুলিতে জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে।

জল ছাড়ছে দুর্গাপুর ব্যারেজ

প্রবল বৃষ্টির ফলে দক্ষিণবঙ্গের নদীগুলি টইটম্বুর। জলধারণ ক্ষমতা কমছে বিভিন্ন জলাধারেও। শুক্রবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ৭২ হাজার ২২৫ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। মাইথন, পাঞ্চেতে প্রবল বৃষ্টির কারণে জলের চাপ বাড়ছে দুর্গাপুর ব্যারেজের উপরও। যে হেতু এই ব্যারেজের জলধারণ ক্ষমতা কম তাই বাধ্য হয়েই জল ছাড়া শুরু করেছে তারা।

বন্যার আশঙ্কা হাওড়া-হুগলি-পূর্ব বর্ধমানে

দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানে। এর মধ্যে হাওড়ার আমতা এবং উদয়নারায়ণপুর সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গত শুক্রবার রেকর্ড ভাঙা বর্ষণে এমনিতেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে হাওড়ার একাধিক জায়গা। শুধুমাত্র বৃষ্টির জলেই বহু জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো ইতিমধ্যেই নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ায় নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ওই সব এলাকায়।

পূর্ব বর্ধমানের সিঙ্গিগ্রামের পাশ দিয়েই বয়েই চলেছে ছোটো নদী ব্রহ্মানী। বছরে ১০-১১ মাস প্রায় জলই থাকে না সেই নদীতে। সেই নদীই এখন দু’কুল উপচে ভাসিয়ে দিয়েছে চাষের জমি। সিঙ্গির স্থানীয় বাসিন্দা সম্রাট বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভাগ্য ভালো যে বৃষ্টিটা ধরে গেল, নইলে কী পরিস্থিতি তৈরি হত সেটা ভাবতেই এখন ভয় লাগছে।”

দু’কুল ভাসিয়ে উপচে পড়েছে ব্রহ্মানী।

বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রামেও বন্যা পরিস্থিতি

তবে শুধু হাওড়া,হুগলি বা পূর্ব বর্ধমানই নয়, রাজ্যের পশ্চিমের জেলাগুলিতেও হড়পা বানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়ক এখন জলের তলায়। বাঁকুড়ার সিমলাপালের শিলাবতী নদীর জল বইছে সেতুর ওপর দিয়ে। ফলে বন্ধ রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা ।

অন্য দিকে, বাঁকুড়ার ছাতনা থেকে চামকরা রাস্তায় গন্ধেশ্বরী নদীর জল বইছে সেতুর ওপর দিয়ে। বন্ধ হয়ে গিয়েছে ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। অন্য দিকে, আমোদর নদের জলে জয়রামবাটি ঢোকার রাস্তা জলে ভাসছে।

শীলাবতী নদীর জল রাস্তায়। বন্ধ বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বীরভূম

বীরভূমের পরিস্থিতিও ভালো নয়। নিম্নচাপটি সরাসরি বীরভূমের ওপর দিয়ে গিয়েছে। ফলে প্রবল বৃষ্টির জেরে জেলার একাধিক নদী দু’ কুল ভাসিয়ে দিচ্ছে। অজয়, ময়ূরাক্ষীর পাশাপাশি বিপদসীমার ওপর দিয়ে জল বইছে শাল নদী।

শান্তিনিকেতনে উপচে গিয়েছে কোপাই

শান্তিনিকেতনে কোপাই নদীর জলও উপচে পড়ে আশেপাশের বসতিতে ঢুকে পড়েছে। একই পরিস্থিতি তারাপীঠের দ্বারকা নদীতেও। এ দিকে ঝাড়খণ্ডে তীব্র বৃষ্টির ফলে তিলপাড়া জলাধার থেকে জল ছাড়া হচ্ছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পশ্চিম মেদিনীপুরেও খারাপ অবস্থা

শিলাবতী নদীর বাঁধ ভেঙে ভেসেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা দুই নম্বর ব্লক। এই ব্লকের বসনছোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আকতকোলা ও যদুপুরে ভাঙল শিলাবতী নদীর বাঁধ। ফলে প্রায় ৫০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। গ্রামের মানুষকে উদ্ধার করার জন্য এনডিআরএফের সাহায্য চাওয়া হয়েছে।

মেদিনীপুরে বন্যা পরিস্থিতি

আগামী দিনের পূর্বাভাস

জল ছাড়া বন্ধ না হলেও বৃষ্টি বন্ধ হয়েছে। এটাই স্বস্তির ব্যাপার। শনিবার সকালে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। নিম্নচাপটির প্রভাবে জলীয় বাষ্পের টানে এই বৃষ্টি। তবে রবিবার থেকে আবহাওয়ার আরও উন্নতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট অনেকটাই কমবে। কারণ এখন আপাতত আর কোনো নিম্নচাপের সম্ভাবনা নেই। এমনকি মৌসুমি অক্ষরেখাটিও দক্ষিণবঙ্গ থেকে সরে যাবে। এর ফলেই কমবে বৃষ্টি। মনে করা হচ্ছে জুন-জুলাইয়ের বাড়তি বৃষ্টির পর আগস্টে দক্ষিণবঙ্গে কিছুটা ঘাটতিতেই থাকতে পারে বর্ষা।

আরও পড়তে পারেন ভারতের করোনা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি, সংক্রমণ কমছে উত্তরপূর্বেও

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন