ওয়েবডেস্ক: ২০০০ সালের বন্যাতেও এ রকম পরিস্থিতি হয়নি, বুধবার সকাল থেকে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হুগলি জেলার আরামবাগে। দ্বারকেশ্বরের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত আরামবাগ পুরসভা এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা। এর পাশাপাশি গত আট বছরের মধ্যে ডিভিসির রেকর্ড জল ছাড়ার ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে দক্ষিণবঙ্গে। রেড আলার্ট জারি করে করেছে ডিভিসি।

বুধবার সকাল থেকেই দ্বারকেশ্বর নদীর ওপর বাঁধ ভেঙে হুহু করে জল ঢুকতে শুরু করে আরামবাগে। শহরের জুবিলি পার্ক অঞ্চল ভাসিয়ে দিয়ে আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে জল। ২০০০ সালে ভয়াবহ বন্যাতেও এ রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়নি আরামবাগে। এ রকম পরিস্থিতি কেন?

বাঁধ ভেঙে যাওয়ার জন্য নদীর ধারে আয়োজিত হওয়া বসন্ত উৎসবকে দায়ী করছেন শহরবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, বসন্ত উৎসবের জন্য বাঁধ বরাবর অনেক পাইপ লাগানো হয়েছিল, এর ফলে বাঁধ অনেক দুর্বল হয়ে যায়। দুর্বল হয়ে যাওয়া বাঁধটাই ভেঙে যাওয়ায় এ রকম অবস্থা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই অভিযোগ মানতে চাননি।

শহরের যখন এ রকম হাল তখন আরামবাগ মহকুমার গ্রামগুলির কী অবস্থা সেটা সহজেই অনুমেয়। বন্যাকবলিত মানুষকে উদ্ধারের জন্য আরামবাগে নেমেছে স্পিড বোট। নামানো হয়েছে জাতীয় এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দলও। আরামবাগের পাশাপাশি জলমগ্ন খানাকুলের বিস্তীর্ণ এলাকাও।

বুধবার সকাল থেকেই জল ছাড়ার পরিমাণ অনেকটাই বাড়ায় ডিভিসির জলাধারগুলি। বেলা বারোটা নাগাদ দু’লক্ষ কিউসেক হারে জল ছেড়েছে দুর্গাপুর ব্যারেজ। দেড় লক্ষ কিউসেক হারে জল ছেড়েছে পাঞ্চেত এবং তেনুঘাট জলাধার। উল্লেখ্য, গত আট বছরে এটাই রেকর্ড জল ছাড়ার পরিমাণ ডিভিসির। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গে বন্যা সতর্কতা জারি করেছে তারা। সব থেকে খারাপ পরিস্থিতি হতে পারে পশ্চিম এবং পূর্ব বর্ধমানে।

ডিভিসির ছাড়া জলে বুধবারই বানভাসি হয়ে পড়েছে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর ব্লকের একাধিক গ্রাম। বুধবার রাতের মধ্যে আমতা ব্লকেও জল ঢুকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বীরভূমেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তিলপাড়া ব্যারেজের ছাড়া জলে প্লাবিত হয়েছে মহম্মদ বাজার-সহ একাধিক জায়গা। কোপাই নদীর জলে ভেসেছে কঙ্কালীতলা মন্দির। তড়িঘড়ি মন্দির থেকে বিগ্রহ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বানভাসি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, কেশপুর, চন্দ্রকোণা, সবং, পিংলা প্রভৃতি অঞ্চল। কংসাবতীর জলে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে পাঁশকুড়াও। গালুডির ছাড়া জলের ফলে প্লাবিত হয়েছে ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর, বিনপুরও। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমাও।

তবে বৃষ্টি কমায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে বাঁকুড়ার সামগ্রিক পরিস্থিতির। জল কমতে শুরু করেছে গন্ধেশ্বরী নদীতে। তবে সতীঘাটে গন্ধেশ্বরীর ওপর ব্রিজের একাংশ ভেঙে পড়ায় যান চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here