malda floods
চলছে ভাঙন। ফাইলচিত্র: ফেসবুক থেকে

মালদা: খাতায়কলমে জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি ৩৭ শতাংশ। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোরালো হয়ে উঠেছে মালদা জেলায়। ইতিমধ্যে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে গঙ্গা-সহ একাধিক নদী। সেই সঙ্গে বজায় রয়েছে ভাঙনও।

মাসখানেক ধরেই কালিয়াচক ৩ ও রতুয়া ১ ব্লকে গঙ্গায় বিক্ষিপ্ত ভাঙন শুরু হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। বিশেষত রতুয়া ১ ব্লকের জঞ্জালিটোলা ও নয়া বিলাইমারি গ্রামের অবস্থা সব থেকে খারাপ। ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে ৫০টিরও বেশি বাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি। জেলায় প্রায় দশ হাজার মানুষ জলবন্দি বলে জানা গিয়েছে।

শুধু গঙ্গাই বয়, বিপদসীমার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে ফুলহার এবং মহানন্দা। যে কোনো মুহূর্তে সেগুলিও বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে গত বছরের বন্যার স্মৃতি ফিরে আসতে পারে জেলায়।

আরও পড়ুন আট বছরে সব থেকে বড়োসড়ো বৃষ্টি ঘাটতির মুখে বাংলা, পরিস্থিতি কি আদৌ বদলাবে?

কিন্তু প্রশ্ন হল, জেলায় যখন বৃষ্টির ঘাটতি এতটাই বেশি, তখন বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হল কী ভাবে?

এর পেছনে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং উত্তরবঙ্গে চলতে থাকা প্রবল বৃষ্টি। উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে প্রবল বৃষ্টির ফলে গঙ্গার জলস্তর বেড়েছে। বারাণসীর গঙ্গার ঘাটগুলো গঙ্গার তলায় চলে গিয়েছে। এর প্রভাব এখন এসেছে মালদায়। অন্য দিকে গত কয়েক দিন উত্তরবঙ্গের পাহাড়, ডুয়ার্স এবং তরাইয়েও ব্যাপক বৃষ্টির ফলে জল বেড়েছে মহানন্দায়। এর ওপরে গত কয়েক দিন মালদা জেলাতেও ভালো বৃষ্টি হয়েছে।

এই মরশুমে একটা সময় এমন এসেছিল যখন বৃষ্টির ঘাটতি বাড়তে বাড়তে প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল মালদায়। সেই ঘাটতি এখন কমে এসেছে ৩৭ শতাংশে। ফলে এই করুণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে মালদায়। তবে স্বস্তির কথা হল, উত্তরবঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টা পর থেকে বৃষ্টির দাপট কমতে শুরু করবে। উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারেও আর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আর অবনতি হবে না এটা আশা করাই যায়।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন