পুলিশ নিয়ে জোর করে গাছ কাটল বন দফতর, বাধা দিতে গিয়ে ধৃত ৮

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : শেষ পর্যন্ত সরাসরি সংঘাতের পথেই গেল বনবিভাগ ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি।গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার উত্তেজনা তৈরি হল লাটাগুড়িতে। গ্রেফতার ৮ জন পরিবেশপ্রেমী। 

যানজট নিয়ন্ত্রণে গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন শিলিগুড়ি-চ্যাংরাবান্ধাগামী রেলপথের ওপর উড়ালপুল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জলপাইগুড়ি পুর্ত দফতর। তারই প্রয়োজনে ৫৫০টি গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে জলপাইগুড়ি বনবিভাগও। এর পর থেকেই শুরু হয়েছে পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির আন্দোলন। তাদের দাবি, পরিবেশের ক্ষতির কথা চিন্তা না করেই বন দফতর এক সঙ্গে এতগুলি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে আখেরে পরিবেশ এবং সেই সঙ্গে মানুষেরও ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন স্থানীয় বনবস্তিবাসীরাও।

গাছ কাটতে গিয়ে সোমাবার তাদের বাধার মুখে পড়ে ফিরে আসে বন ও পুর্ত দফতরের আধিকারিকেরা। এর পর থেকে ‘গাছ পাহারা’ দিতে নামেন পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা। পরিস্থিতি জটিল অনুমান করে বৃহস্পতিবার বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে গাছ কাটাতে যায় বন দফতর। বনাঞ্চল-সংলগ্ন জাতীয় সড়ক বন্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে শুরু হয় একের পর এক গাছ কেটে ফেলার কাজ। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হলে পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি হয় তাঁদের। শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাঁদের মধ্যে ৮ জনকে গ্রেফতার করে নাগরাকাটা থানায় নিয়ে যায়। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। যদিও এই গ্রেফতারি তাঁদের আন্দোলন দমাতে পারবে না বলে স্পষ্ট হুমকি দিয়েছেন এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সম্পাদক অনির্বাণ মজুমদার। অন্য একটি পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সম্পাদক শ্যামাপ্রসাদ পাণ্ডে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তাঁরা বনবস্তিবাসীদের সঙ্গে নিয়ে অনশনের পথে যাবেন। তবে বন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ বৃহস্পতিবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, উন্নয়নের জন্য যা প্রয়োজন তাই করা হবে, কোনো বাধা বরদাস্ত করা হবে না। তবে যে গাছ কাটা হয়েছে, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে তার পরিবর্তে আরও অনেক বেশি গাছ লাগাবে বন দফতর বলে জানিয়েছেন উদয়ন গুহ।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন