খবরঅনলাইন ডেস্ক: প্রায় দেড় দশক আগে সিঙ্গুর-নদীগ্রামের জমিরক্ষা আন্দোলনের পিছনে ‘কুটিল চিত্রনাট্য’ ছিল বলে অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

নন্দীগ্রামে ভোটের প্রচারে গিয়ে ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ পুলিশের গুলিচালনা নিয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার যে মন্তব্য করেছেন, তার জেরে গত দু’ দিন ধরে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। তারই প্রেক্ষিতে সোমবার সিপিআই(এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির তরফে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

Loading videos...

সেই জমিরক্ষা আন্দোলনের পিছনে চক্রান্তের অভিযোগ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওই বিবৃতিতে বলেছেন, “নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুরে এখন শ্মশানের নীরবতা। সে সময়ের কুটিল চিত্রনাট্যের চক্রান্তকারীরা আজ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি করছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছে বাংলার যুব সমাজ।”

‘কুটিল চিত্রনাট্যের চক্রান্তকারীরা আজ দু’ভাগে বিভক্ত’ বলে বুদ্ধবাবু যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অধিকারী পরিবারকে বুঝিয়েছেন তা পরিষ্কার।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্লোগান ছিল – ‘কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ’। সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “বামফ্রন্ট সরকারের সময় থেকেই যে অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ভাবনা আমরা রাজ্যের মানুষকে বলার চেষ্টা করেছি, তা হল কৃষি আমাদের ভিত্তি-শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ। আমরা সেই পথ ধরেই এগিয়েছি।”

রবিবার রেয়াপাড়ায় এক সভায় শিশির অধিকারী এবং শুভেন্দু অধিকারীকে দুষে  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ ‘বাপ-ব্যাটা’র অনুমতি নিয়েই পুলিশ নন্দীগ্রামে অভিযান চালিয়েছিল। এমনকি হাওয়াই চটি পরা পুলিশ ঢোকানোর ‘দায়’ও তাঁদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন তৃণমূলনেত্রী।

মমতার এই মন্তব্যের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারে নামে সিপিএম। তাদের বক্তব্য, নন্দীগ্রামে গুলিচালনার ঘটনা যে তৃণমূলের চক্রান্ত তা পরোক্ষে স্বীকার করে নিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী। কারণ সেই সময়ে মমতা, শিশির এবং শুভেন্দু তিন জনেই তৃণমূলে ছিলেন। উল্লেখ্য, দশ বছর আগে একটি টিভি চ্যানেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিচালনার পিছনে ‘চক্রান্ত’ আছে বলে অভিযোগ করেছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.