buddhadeb bhattacharya
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ফাইল ছবি।

ওয়েবডেস্ক: ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাওয়া শুরু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের। তবে সিপিএম কর্মী-সমর্থক তো বটেই বঙ্গ রাজনীতির একটা বৃহৎ অংশের মনে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত মানুষটি সর্বদাই একটা আবেগের নাম। শারীরিক অসুস্থতা জাঁকিয়ে বসেছে বেশ কয়েক বছর আগেই। অশক্ত শরীরে ইচ্ছা থাকলেও এড়াতে হয় দলের ডাক। তবে পরিস্থিতির বদল হতে শুরু করেছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ ‘কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ’ স্লোগানকে বাস্তবায়নের আপ্রাণ প্রয়াসী বুদ্ধবাবু। কী এমন পরিবর্তন হল?

জানা গিয়েছিল, কয়েক মাস আগেও ধীরে ধীরে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছিলেন তিনি। চোখে আলো সহ্য করতে পারছিলেন না। ঘর থেকে বের হওয়া ছিল সমস্যার। যে কারণে বামফ্রন্টের সাম্প্রতিক ব্রিগেড সমাবেশে মাঠে এসেও মঞ্চে উঠতে পারেননি তিনি। গাড়ি করে মাঠে ঢুকে সেখান থেকেই ফিরে যান। সমর্থকরা বলেছিলেন, ওটাই যথেষ্ট। সে বারও তাঁকে দেখা গিয়েছিল মোটা রোদ চশমা চোখে। এমনটাও শোনা যায়, পরিচিত অনেককে চিন্তা পর্যন্ত সমস্যা হচ্ছে তাঁর। দলীয় নেতৃত্ব তো বটেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁকে সে সময় দেখতে যান। তবে দীর্ঘ দিনের চিকিৎসায় এখন কিছুটা হলেও উন্নতি হচ্ছে তাঁর শারীরিক অবস্থার।

Loading videos...

তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, এখন আর আগের মতো শুধুমাত্র তরল খাবারে নির্ভর করতে হচ্ছে না তাঁকে। এখন তিনি বাড়িতে তৈরি সাধারণ খাবারও নিতে পারছেন। এমনকী নিজে থেকেই শৌচালয়ে যেতে পারছেন। স্বাভাবিক ভাবেই একটা কঠিন সময় কাটিয়ে তিনি ফের নতুন করে ফিরে আসছেন। কিন্তু অক্সিজেন সাপোর্ট সমানে বহাল রয়েছে এখনও। অন্য দিকে খাবারও খুব একটা বিশেষ নিতে পারছেন না। এই অবস্থাগুলির পরিবর্তনই এখন লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। অন্তত গত লোকসভা ভোটের সময়ের শারীরিক অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়েছে।

বরাবরই সাহিত্য-অনুরাগী বুদ্ধবাবু বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটা বই লেখার ইচ্ছাপ্রকাশও করেছেন। তবে অন্তরায় সেই শারীরিক অবস্থা। চিকিৎসকরা অবশ্য জানিয়েছেন, সব কিছু ঠিকঠাক চললে এ ভাবেই শারীরিক ‘সংকট’ কেটে যেতে পারে তাঁর। কারণ, শরীর অশক্ত হলেও, মনোবল তাঁর আগের মতোই চড়া। তাঁর হাতে ফের কলম ওঠা অথবা প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে আগের মতো হাত নাড়া হয়তো আবারও দেখা যেতে পারে সেই মনোবলের সৌজন্যেই!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.