Congress-CPIM
সোমবার বিধানভবনে কংগ্রেসে যোগ দান (বাঁ দিকে)। বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী হিসাবে প্রচারে আব্দুস সাত্তার (ফাইল ছবি)

ওয়েবডেস্ক: দেশ জুড়ে বিভাজনের রাজনীতি ও রাজনীতির বিভাজনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে কংগ্রেসের কোনো বিকল্প নেই, দাবি করে কংগ্রেসে যোগ দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও সিপিএম নেতা আব্দুস সাত্তার। পেশায় শিক্ষক সাত্তার বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

২০০৬-এ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রীও হয়েছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার এই সিপিএম বিধায়ক। তবে ২০১৭ সালের পর থেকে তিনি আর সিপিএমের সঙ্গে কোনো রকমের যোগাযোগ রাখছিলেন না বলেই জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস ধরেই রাজ্যের কংগ্রেস নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে যোগযোগ করছিলেন।

কংগ্রেসে যোগদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের আট বছরের শাসনে যে ভাবে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হয়েছে, কংগ্রেস ও বামেদের ৬৪ বছরের শাসনে তা ভাবনার বাইরে ছিল। এই কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমে সংখ্যালঘু তোষণ এবং এখন সংখ্যাগুরু তোষণের নামে এক দিকে যেমন তৃণমূল বিভাজন তীব্র করছে, তেমনই অন্য দিকে বিজেপিরও দাপট বাড়ছে’’।

সোমবার প্রদেশ কংগ্রেসের সদর কার্যালয় বিধান ভবনে সভাপতি সোমেন মিত্র, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক গৌরব গগৈয়ের হাত থেকে কংগ্রেসের পতাকা তুলে নেন সাত্তার।

দলবদল ইদানীং বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। কংগ্রেস বা বিভিন্ন বামদলগুলি ছেড়ে নেতা-কর্মী বা বিধায়করা এখন প্রায়শই তৃণমূল বা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। তবে এরই মাঝে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া বেশ চমকপ্রদ বটেই। সাম্প্রতিক কালে কংগ্রেস ছেড়ে ডজন দেড়েক কংগ্রেস বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে কংগ্রেসের তরফে তৃণমূলের দল ভাঙানোর রাজনীতির সমালোচনা করা হয়েছে কড়া ভাষায়। এ বার প্রাক্তন সিপিএম নেতার কংগ্রেস যোগ দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগে সরব রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে যখন বর্তমানে কংগ্রেস-সিপিএম অলিখিত জোটসঙ্গীর মতোই রাজ্যে শাসক বিরোধী লড়াই চালিয়ে আসছে।

আরও পড়ুন: পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোট গণনা লাইভ

এ প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, ‘‘সাত্তারের কংগ্রেস যোগ দেওয়ায় দল ভাঙানোর কোনো প্রশ্ন নেই। উনি এখন কোনও রাজনৈতিক দলেই ছিলেন না। আমরা সব সমই চাইব, নিজের দলকে শক্তিশালী করতে’’।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here