fruit tree plantation in hospital

নিজস্ব প্রতিনিধি, বোলপুর: হাসপাতাল মানেই নরক যন্ত্রণা, মনে করেন অনেকেই। সেই কলঙ্ক কিছুটা হলেও ঘোচাতে চলেছে বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল। আর এই কলঙ্ক ঘোচাতে উদ্যোগী হয়েছে কংকালী গ্রাম পঞ্চায়েত। রোগীদের কথা মাথায় রেখে হাসপাতাল চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বিশাল পরিত্যক্ত জায়গায় কয়েক হাজার ফলের গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল বর্তমানে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের তকমা পেয়েছে। কিন্তু এই হাসপাতালের ভিতর প্রায় ১২ বিঘা জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আর সেখানেই বেড়ে উঠেছিল আগাছার জঙ্গল। রোগজীবাণু বহনকারী মশার বংশ বৃদ্ধি হচ্ছিল অবাধে। বর্ষার পর পরিস্থতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। সেই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের পরিবেশ সুস্থ জায়গায় ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হল বোলপুর ব্লকের কংকালী পঞ্চায়েতের তরফ থেকে।

“আমরা দেখলাম হাসপাতাল চত্বরের মধ্যে একটা বড়ো জমি আগাছায় ঢেকে গেছে। ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে সেই জায়গা পরিষ্কার করে সেই জমিতে ফলের গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়”, জানালেন পঞ্চায়েতের বন ও ভুমি কর্মাধ্যক্ষ আলেপ শেখ। এই মহকুমা হাসপাতালের আগাছার জঙ্গল পরিষ্কার করে শনিবার লাগানো হল প্রায় চার হাজার ফলের চারাগাছ।

কংকালী গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মহম্মদ মামন বলেন, “জায়গা পরিষ্কার করার পর দেখলাম,  ওই জায়গায় কিছু করা না হলে আবার আগাছা গজিয়ে উঠবে। তাই সিদ্ধান্ত হল ওই জমিতে ফলের গাছ লাগানোর। যদি ফলের গাছ লাগানো যায় তা হলে আগাছা যেমন আর জন্মাবে না, তেমনই ওই ফল হাসপাতালের রোগীদের খাওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। তাদের সম্মতি মিলতেই আমরা কাজ শুরু করে দিই।”

১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে প্রায় ১২ বিঘা জমি পরিষ্কার করে সেখানে প্রায় দু’ হাজার আম,  এক হাজার পেঁপে এবং জামরুল,  সবেদা,  নারকেল,  পেয়ারা,  লেবু গাছ লাগানো হল। মহম্মদ মামন জানালেন, এই গাছগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ওই গোষ্ঠীই সমস্ত গাছ দেখভাল করবে। এই গাছগুলোর জলের চাহিদা মেটাতে এখানে সাবমার্সিবল বসানো হয়েছে। ফলে প্রখর গ্রীষ্মেও জলের কোনো অসুবিধা হবে না। এই বাগানের  উৎপাদিত ফল হাসপাতালের চাহিদা মেটানোর পর বাজারজাত করবেন এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা। শনিবার সকালে গাছ পোঁতার কাজ শুরু হল। সে সময় সেখানে আলেপ শেখ, মহম্মদ মামন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী এবং  বোলপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের অধীক্ষক ডাঃ অমিত মজুমদার।

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন