কলকাতা: কর্মহীন ও এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নথিভুক্ত যুবক-যুবতীকে পরিবহণ ব্যবসায় স্বনির্ভর করে তুলতে, বাণিজ্যিক গাড়ি কেনার অর্থের বেশ কিছু টাকার যোগান দিচ্ছে রাজ্য সরকার। পরিবহণ দফতরের এই প্রকল্পের নাম ‘গতিধারা’। এই প্রকল্পের আওতায় গাড়ি কিনলে পরিবহণ দফতরের সহায়তায় পারমিট পেতেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জেলা ও শহরের যুবক-যুবতীদের পাশাপাশি শারীরিক ভাবে পিছিয়ে থাকা যুবক-যুবতীরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।

যে কোনো বাণিজ্যিক গাড়ি কিনলেই রাজ্য সরকার গাড়ির মোট দামের ৩০ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা অনুদান বা ভরতুকি হিসেবে দেবে এবং এই অর্থ ফেরত দিতে হবে না। অর্থাৎ গাড়ির মোট দামের ৩০ শতাংশ দিচ্ছে রাজ্য। ওই উদ্যোগীকে নিজেকে কিছু অর্থের যোগান দিতে হবে।

সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক এবং সমবায় ব্যাংক ছাড়াও প্রকল্পের তালিকাভুক্ত ১৩টি নন ব্যাঙ্কিং ফিনান্স কর্পোরেশন (NBFC) থেকে গতিধারা প্রকল্পের জন্য আর্থিক সাহায্য পাওয়া যাবে।

কারা আবেদনের যোগ্য: যে কোনো বছরের ১ এপ্রিলের হিসেবে ওই যুবক/যুবতীর বয়স ২০ বছরের বেশি, কিন্তু ৪৫ বছরের কম হতে হবে। তবে তপশিলি জাতি ও আদিবাসী এবং ওবিসি–দের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় যথাক্রমে ৫ বছর ও ৩ বছরের ছাড় থাকবে। ওই যুবক/ যুবতীকে কর্মহীন হিসেবে এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকে নথিভুক্ত হতে হবে। পারিবারিক মাসিক আয় ২৫ হাজার টাকার বেশি হবে না। ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পে যারা সরকারি সুযোগ-সুবিধে পেয়েছেন, তাঁরাও আবেদনের যোগ্য। গতিধারা–র আর্থি ক সাহায্য পাওয়ার পরই যুবশ্রী প্রকল্পে প্রাপ্ত ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। গতিধারার সুবিধা রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বর্তমানে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে— আবেদনপত্রের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সুপারিশ কাঙ্ক্ষিত।

যোগাযোগ: জেলার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক (RTO)-এর অফিস এবং রাজ্যস্তরে পারমিটের জন্য স্টেট ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (STA)–র বিভিন্ন আঞ্চলিক (কলকাতা, শিলিগুড়ি ও দুর্গাপুর) অফিসে আবেদন বা যাবতীয় প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here