যাদবপুরে বিক্ষোভের মুখে রাজ্যপাল! উদ্ধারের চেষ্টা বাবুলকে

ওয়েবডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল রাজ্যপাল জগদীপ ধানকরকেও। এ দিন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে গাড়ি থেকে নামতেই পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। ফলে ফের নিজের গাড়িতে গিয়ে বসেন। এর পরই তিনি ভিতরে ঢুকে বাবুল সুপ্রিয়কে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

বিক্ষোভের আঁচ এড়িয়ে রাজ্যপাল বাবুলকে বের করার সময়ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি চলতে থাকে। শেষমেশ কোনো রকমে বাবুলকে নিজের গাড়িতে বসিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার চেষ্টা করেন রাজ্যপাল। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা গাড়ি আটকান।তাঁরা গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন।বলেন, গাড়ি নিয়ে বেরোতে হলে তাঁদের উপর দিয়ে যেতে হবে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র হেনস্থাকাণ্ডে সরব হন রাজ্যপাল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজভবন থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, “বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হেনস্থা প্রমাণ করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে”। একই সঙ্গে তাঁর যাদবপুরে যাওয়ার কথাও জানানো হয়।

যাদবপুরের ঘটনায় ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল টেলিফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। রাজভবনে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বেআইনি ভাবে আটকানো হয়েছে। এটা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতির ছবি”।

এর পরই রাজ্যের মুখ্য সচিবের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যপাল। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে মমতাকেও ফোন করেন তিনি। বলেন, “এ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির হাল কেমন? আইন রক্ষাকারী সংস্থাগুলি কেমন কাজ করছে, এই ঘ‌টনা তারই গুরুতর প্রতিফলন”।

প্রসঙ্গত, এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন বাবুল। এবিভিপির নবীনবরণ অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে তাঁকে ফিরে যেতে বলা হয় বিক্ষোভকারীদের তরফে। কিন্তু তার পরেও তিনি এগোতে থাকলে বিক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। তাঁর চশমা খুলে নেওয়া হয়, জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁকে কিল-চড় মারা এবং চুল ধরে টানাটানির অভিযোগ করেন বাবুল।

অন্য দিকে বিক্ষোভকারী বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ, “কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর আচরণ অসংযত ছিল। তিনিই প্রথম গায়ে হাত তুলেছিলেন”।

এই অভিযোগকে সামনে রেখেই তারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উদ্দেশে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরোতে গিয়ে ফের একবার আটকানো হয় বাবুলকে। ঘটনাস্থলে আসে অতিরিক্ত বাহিনী।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.