নিজস্ব চিত্র
ইন্দ্রাণী সেন।

বাঁকুড়া: কালীক্ষেত্র সোনামুখীতে শেষ হল বিসর্জনের শোভাযাত্রা। অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও ঐতিহ্য আর পরম্পরা মেনে কালীপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা কার্নিভ্যালের রূপ নেয়। এ বছর সোনামুখীতে প্রায় দু’শোটি কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১৯টি কালীপ্রতিমা এ বার শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়ার প্রশাসনিক অনুমতি পেয়েছিল।

প্রতি বারের মতো এ বারও প্রথমে কার্নিভ্যালে আসে বড়োকালী। তার পর একে একে কর্মকারপাড়ার শিবদুর্গা, পায়রা কালী, থান্দার কালী, মুরুলী কালী, ভদ্রকালী, হট্‌ নগর কালী, তেমাথা কালী, মাইতো কালী, সত্য কালী, মধুশিব, দক্ষিণখণ্ড কালী, সার্ভিস কালী, কৃষ্ণকালী, রক্ষাকালী, পাগলাকালী। সব শেষে খ্যাপাকালী।

আরও পড়ুন ১৭০ বছরের রীতি মেনে ভাইফোঁটার দিনেই সিঁদুর খেলা শেষে বিদায় নেন হাটআশুড়িয়ার ‘হরগৌরী’

সোনামুখীর কালীপুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কালীপ্রতিমার শোভাযাত্রা। এর সঙ্গে সঙ্গেই আতসবাজি ও বাজনার প্রতিযোগিতা দেখতে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। আগে থেকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া পথে শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে সমস্ত প্রতিমাকে শেষে নিয়ে আসা হয় চৌমাথার মোড়ে। তার পর ওখান থেকে সরাসরি বিসর্জনের ঘাটে। বেশির ভাগ পুজো কমিটি ‘দশের পুকুরে’ তাদের প্রতিমা বিসর্জন দিলেও কয়েকটি পুজো কমিটি তাদের নিজস্ব পুকুরে বিসর্জন দেন।

প্রতিমা নিরঞ্জন শেষ হতে হতে রবিবার দুপুর গড়িয়ে যায়। প্রতিটি শোভাযাত্রার সঙ্গে এক জন পুলিশ আধিকারিক তাঁর দল নিয়ে ওয়াকিটকি হাতে কড়া নজর রেখেছিলেন, তেমনি প্রশাসনের তরফে চৌমাথা ও দশের পুকুরে দু’টি কন্ট্রোলরুমও খোলা হয়েছিল। প্রস্তুত ছিল দমকলের একটি ইঞ্জিনও। বিষ্ণুপুর মহকুমা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, সোনামুখী শহরে ঢোকার চারটি মূল পয়েন্টে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে একেবারে নির্বিঘ্নেই কেটেছে এ বারের সোনামুখীর কালীপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠান।

মাইতো কালীপুজো কমিটির অন্যতম সদস্য ও সোনামুখী পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কুশল বন্দ্যোপাধ্যায় ও হট্ নগর কালীপুজো কমিটির সদস্য বুম্বা হালদার বলেন, প্রতি বারের মতো এ বারও এই অনুষ্ঠানে পুলিশ-প্রশাসন যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়া মানুষ মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here