কোভিডবিধি না ভেঙেই আমন্ত্রিত ৪০০! গুগল মিট, জোম্যাটোয় ভর করে বিয়ে সারছেন পূর্ব বর্ধমানের হবু দম্পতি

0
অদিতি এবং সন্দীপ। সংগৃহীত ছবি

কলকাতা: করোনা রুখতে আমন্ত্রিতের সংখ্যা দু’শোয় বেঁধে দিয়েছে রাজ্য সরকার। তা হলে যে পূর্ব বর্ধমানের এক হবু দম্পতির বিয়েতে আমন্ত্রিত চারশো! আসলে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠানে সশরীরে হাজির থাকবেন মাত্র জনা পঞ্চাশেক অতিথি। বাকিরা শুভদৃষ্টি দেখবেন গুগল মিটে (Google Meet)। শুধু কি তাই, তাঁদের ভোজ-ও বাড়িতে পৌঁছে যাবে জোম্যাটোর (Zomato) মাধ্যমে।

পাত্র পূর্ব বর্ধমানের পাল্লা রোডের বাসিন্দা সন্দীপ সরকার। পাত্রী বর্ধমানের অদিতি দাস। আগামী ২৪ জানুয়ারি তাঁদেরই চার হাত এক হবে। সমাজকর্মী এবং ব্যবসায়ী সন্দীপ ইতিমধ্যেই গুগল মিটে বিয়ে দেখা ও জোম্যাটোতে খাবার ডেলিভারির কথা জানিয়ে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন অতিথিদের।

আমন্ত্রিতদের জন্য নিজেদের বিয়ের সরাসরি সম্প্রচার করতে গুগল মিট ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সন্দীপ-অদিতি। এই সব ভার্চুয়াল অতিথিদের দোরগোড়ায় তাঁদের বিয়ের ভোট পাঠানোর জন্য জোম্যাটোর সঙ্গে চুক্তিও সেরে ফেলেছেন তাঁরা।

চলতি মাসের শুরুর দিকে কোভিড আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভরতি হতে হয় সন্দীপকে। তখন থেকেই তাঁর মাথায় ঘুরপাক খেতে শুরু করে এই অভিনব পরিকল্পনা। পরিবারের সুরক্ষা ও অতিথিদের সুরক্ষার কথা ভেবেই এ ধরনের চিন্তাভাবনা।

সন্দীপের কথায়, “কোভিডে ভুগে আমি মারাত্মক কষ্ট পেয়েছি। হাসপাতালে ভরতি হওয়ার ঘটনাই আমাকে নতুন কিছু ভাবতে সাহায্য করেছে। কী ভাবে অনেক লোক ভিড় না করেই সবাইকে নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করা যায়, সেটাই খুঁজে বের করেছি। আমার এবং অদিতির পরিবারকে এই পরিকল্পনাটার কথা জানাতে, তাঁরা সহমত হন। আমার বন্ধুরাও এই ধারণাকে স্বাগত জানিয়ে আমাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে”।

সন্দীপ জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানে হাতে গোনা কয়েকজন সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। বাকিদের কাছে পৌঁছে যাবে বিয়ের অনুষ্ঠান দেখার জন্য গুগল মিটের লিঙ্ক। রাজ্য এবং দেশের অন্য সব জায়গা থেকেও আমন্ত্রিতদের কাছে তা পাঠানো হবে। একই সঙ্গে অনলাইনে খাবার ডেলিভারি সংস্থার মাধ্যমে তাঁদের কাছে পৌঁছে যাবে বিয়ের ভোজ।

এ ধরনের প্রস্তাব পেয়ে প্রথমে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন জোম্যাটোর স্থানীয় কর্তারা। কিন্তু ঘোর কাটতেই তাঁরাও যথেষ্ট উদ্দীপিত। হবু দম্পতির বিয়েতে তাঁদের তরফে সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে।

উল্লেখ্য, করোনা মোকাবিলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন সন্দীপ। এলাকায় একটি হার্ডওয়্যার ব্যবসার পাশাপাশি পরিবারের মালিকানাধীন একটি পরিবহণ ব্যবসাও দেখাশোনা করেন তিনি। অন্য দিকে, কলকাতায় একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করতেন অদিতি।

আরও পড়তে পারেন:

টেস্টে ব্যাপক বৃদ্ধির পরেও পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণ বাড়ল সামান্যই, এক ধাক্কায় ২০ শতাংশের নীচে সংক্রমণের হার

টেলিভোটিংয়ের মাধ্যে পঞ্জাবে আপের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হলেন সংসদে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান তোলা ভগবন্ত মান

তৃণমূল প্রার্থী না দিলেও উত্তরপ্রদেশে ভোটপ্রচারে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিল বাবদ বকেয়া ৪৪ কোটি টাকার বেশি, স্বাস্থ্যসচিবকে চিঠি রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার

বাজেট ২০২২: বোঝা লাঘবে বেতনভুক করদাতারা কী ধরনের প্রত্যাশা করছেন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন