arrested imposter

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: “হ্যালো, আমি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর আপ্তসহায়ক বলছি, বেশি বাড়াবাড়ি করলে বদলি করে দেব, যখন তখন যার তার প্যান্ট খুলে নিতে পারি আমি” – দিন কয়েক আগে এমন ফোন-ধমক খেয়ে কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না কোতোয়ালি থানার এক পুলিশ আধিকারিক। শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি উপর মহলে জানান। ঘটনার তদন্তে নেমে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় পুলিশের। নাম এবং পরিচয় ভাঁড়িয়ে এই রকম ‘ধমকানো-চমকানো’র একাধিক অভিযোগ রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, নেতা-মন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠ এবং আইনজীবী পরিচয় দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একাধিক মৌখিক অভিযোগ জমা পড়ে পুলিশের কাছে। এক মহিলা আইনজীবীও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ জানান। ‘সুয়োমোটো’ মামলা করে জলপাইগুড়ির শিল্পসমিতিপাড়ার একটি আবাসন থেকে তাকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

অভিযুক্তের নাম ইন্দ্রনীল রায়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নথি থেকে জানা গিয়েছে, তার বাড়ি আদতে কোচবিহারের খাগাড়াবাড়িতে। বেশ কিছু দিন ধরে সে জলপাইগুড়ি ওই আবাসনে থাকছিল। অভিযুক্তের গ্রেফতারির খবর পেয়ে শনিবার সকালে থানায় আসেন বেলাকোবার বাসিন্দা মানস রায়। তাঁর অভিযোগ, মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এবং আইনজীবী পরিচয় দিয়ে একটি জমির সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল ইন্দ্রনীল রায়। তার জন্য ৮৫ হাজার টাকা নিয়েছিল। কিন্তু কাজ না হওয়ায় সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে তারও ‘প্যান্ট খুলে নেওয়ার’ হুমকি দিয়েছিল অভিযুক্ত।

গ্রেফতারির পর তাকে দফায় দফায় জেরা করে পুলিশ আধিকারিকদের মনে হয়েছে, মন্ত্রী-সাংসদদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে এই ভাবে বহু প্রতারণা সে করেছে। কোচবিহারের বাসিন্দা হওয়ায় নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে বেশির ভাগ সময় মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের নামটাই সে ব্যাবহার করত। উত্তরবঙ্গের অন্য নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গেও তার বেশ ‘দহরম-মহরম’ আছে বলে বিভিন্ন জায়গায় দাবি করত।

ঘটনা শুনে স্বভাবতই ক্ষুদ্ধ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, “অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। পুলিশ তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করুক।”

শনিবারই তাকে জলপাইগুড়ি আদলতে তুলে পাঁচ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের মনে হয়েছে, ধৃতকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। তার প্রতারণার জাল কত দূর ছড়ানো, তার হদিস পেতে চায় পুলিশ।
কারণ অভিযুক্ত ‘কে’ এবং কী কী কাণ্ড ঘটিয়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে এখনও।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here