Bankura
ইন্দ্রাণী সেন।

বাঁকুড়া: পরিবারে কোনো কন্যা সন্তান ছিল না। কন্যা সন্তানের আশায় দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন বর্ধমানের রাজার রাজবৈদ্য সুকুমার সরকার। পরে তিনি দেবীর স্বপ্নাদেশে কার্তিক মাসের অমাবস্যার আগের চতুর্থীতে বাঁকুড়ার বড়জোড়ার হাটআশুড়িয়ার গ্রামের বাড়িতে ‘হরগৌরী’র পুজো শুরু করেন।

ধারাবাহিকতা মেনে সেই পুজোই এ বার ১৭০ বছরে পড়ল। অসুর দলনী-সিংহ বাহিনী রূপে নয়, এখানে শিব ও দুর্গাকে হরগৌরী রূপে ঘরের মেয়ে-জামাই হিসেবেই দেখা হয়। পুরনো রীতি আর শাস্ত্র মেনে এখানে চারদিন ধরে পুজো করা হয়। ভাইফোঁটার দিন সিঁদুর খেলা শেষে হয় বিসর্জন।

Bankura

এই পরিবারের বর্তমান সদস্য কৃষ্ণেন্দু দাশগুপ্ত বলেন, কালীপুজোর আগের দিন স্থানীয় নতুনপুকুর থেকে ঘট এনে পুজো শুরু হয়। সম্পূর্ণ বৈষ্ণব মতে এই পুজো হওয়ার কারণে বলিদানের কোনো ব্যবস্থা নেই। যতটা সম্ভব অনাড়ম্বরভাবে ভক্তিভরে পুজো করাটাই আসল উদ্দেশ্য বলে তিনি জানান। বর্তমানে এই পরিবারে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বাড়ির মেয়েদের পাশাপাশি অন্যান্য সদস্য, আত্মীয়স্বজনরাও যে যেখানেই থাকুন না ‘হরগৌরী’র পুজোতে তাঁরা হাটআশুড়িয়া গ্রামের বাড়িতে আসবেনই বলেও তিনি জানান।

সিঁদুর খেলার ফাঁকে এই বাড়িরই মেয়ে শিপ্রা সেনগুপ্ত বলেন, “সারা বছর অপেক্ষাই থাকি। পুজোর সময় বাপেরবাড়িতে আসার সুযোগ হয় না। সেই না আসতে পারার আক্ষেপ অনেকটই এই সময় মিটে যায়। আমরা সমস্ত বোনেরা একসাথে হাতে হাত লাগিয়ে পুজোর আয়োজন করি”। পুজো শেষে বিদায়ের আগে এই সিঁদুর খেলাই যেন আগামী বছর পুজো শুরুর সূচনা করে দিয়ে যায় বলেও তিনি জানান।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here