appeal to health secretary

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: তাঁরা ভেবেছিলেন বড়ো আধিকারিক এসেছেন, হয়তো তাঁদের কিছু সুরাহা হবে। ফল হল উলটো। কাজ চেয়ে পা জড়িয়ে ধরায় হাসপাতালের এক আয়ামাসির ওপর বিরক্ত, ক্ষুদ্ধ রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব অনিল বর্মার মন্তব্য, “ড্রামা করবেন না”। এই রকম উত্তর পেয়ে কেঁদেই ফেললেন সাবিত্রী বিশ্বাস নামে ওই আয়ামাসি।

শনিবার জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা পরিদর্শনে এসেছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব-সহ একাধিক আধিকারিক। কিন্তু তাঁর এ হেন আচরণে প্রশ্ন উঠেছে, কাজ-হারা মানুষগুলোর প্রতি আর একটু মানবিক কি হওয়া যেত না?

চলতি মাসের সাত তারিখে সংস্কারের কাজ করার জন্য জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল থেকে মেডিসিন, সার্জিক্যাল এবং অর্থপেডিক অন্তর্বিভাগ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। এই বিভাগগুলোতে ভর্তি থাকা রোগীদের দেখাশোনা করতেন এই আয়ামাসিরা। আইনি বৈধতা না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা এই কাজ করে রোজগার করছেন। জেলা হাসপাতালে এমন প্রায় ৫০০ জন আয়ামাসি রয়েছেন। আইনি বৈধতা না থাকলেও এত দিন হাসপাতালের তরফে কোনো বাধা আসেনি। কিন্তু স্বাস্থ্য দফতরের নিয়ম অনুযায়ী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এই আয়া-মাসিদের ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এতেই বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। গত ১১ দিন ধরে তাঁরা কর্মহীন। কবিতা রায় নামে একজন জানিয়েছেন, প্রায় তিরিশ বছর ধরে তিনি এই আয়ার কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। কাজ হারানোর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ-সহ বিভিন্ন জায়গায় দরবার করেও কোনো লাভ হয়নি।

শনিবার স্বাস্থ্যসচিবের আসার খবর পেয়ে তাঁরা কিছুটা আশান্বিত হয়েই জেলা হাসপাতালের মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবের সামনে জমায়েত হয়েছিলেন। স্বাস্থ্যসচিব পরিদর্শন সেরে বের হওয়ার সময় তাঁকে ঘিরে ধরেন প্রায় শ’ চারেক আয়া। দাবি ছিল একটিই, যে কোনো উপায়ে তাঁদের কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। কাজ চেয়ে কাকুতিমিনতি করার সময়ে সাবিত্রী বিশ্বাস নামে এক মহিলা স্বাস্থ্যসচিবের পা জড়িয়ে ধরেন। সেই সময় স্বাস্থ্যসচিব অনিল বর্মার উক্তি, “ড্রামা করবেন না, সরুন”। এর পরেই সদল বেরিয়ে যান তিনি।

ঘটনার পর আয়ামাসিরা অনেকে কেঁদে ফেলেন। এত উচ্চপদস্থ এক জনের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করেননি কেউ। কিছুই হবে না বুঝে চোখে জল নিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় একটাই কথা বলছিলেন আয়ামাসিরা, “আমাদের কথা শোনার কেউ নেই”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here