প্রবল গরমের আশঙ্কা।

ওয়েবডেস্ক: নতুন বছরের শুরুতেই আবহাওয়া সংক্রান্ত খবর বিশেষ ভালো নয়। এখন থেকে আগামী দু’তিন দিন উত্তরোত্তর বাড়বে গরম। দহনজ্বালা কাকে বলে সেটা বৈশাখের শুরু থেকেই টের পেতে শুরু করবেন রাজ্যের মানুষ। তবে স্বস্তির ঝড়বৃষ্টিও খুব দূরে নেই। প্রবল গরমের পর এই সপ্তাহের শেষের দিকে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে রাজ্য জুড়ে।

এ বার বৈশাখের আগেই রেকর্ড সংখ্যক কালবৈশাখী হয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। গত গরমে যেখানে রাজ্যে ন’টা কালবৈশাখী হওয়ার কথা, সেখানে এ বার বৈশাখ শুরু হওয়ার আগেই হয়েছে আটটা। যার ফলে ফাল্গুন-চৈত্রে সে ভাবে গরমের টের পাওয়া যায়নি। যখনই পারদ বেড়েছে, বয়ে গিয়েছে কালবৈশাখী। সেই সঙ্গে হয়েছে স্বস্তির ঝড়বৃষ্টি। কিন্তু এ বার পরিস্থিতি অন্য রকম।

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা জানাচ্ছে, মধ্য ভারত থেকে ক্রমে গরম হাওয়া ঢুকতে শুরু করেছে রাজ্যে। যার ফলে গোটা দক্ষিণবঙ্গেই পয়লা বৈশাখের দিন থেকে আরও বাড়বে পারদ। রবিবার থেকেই রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে ঢুকতে শুরু করে দিয়েছে গরম হাওয়া। যার ফলে রবিবারই ৪০ ছাড়িয়েছে আসানসোল, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। তুলনায় কলকাতার পারদ কিছু কম ছিল, তার মূল কারণ দখিনা হাওয়া।

আরও পড়ুন স্বাগত ১৪২৬, জীর্ণ, পুরাতন সব ভেসে যাক, শুভ হোক নববর্ষ

কিন্তু ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানাচ্ছেন, সোমবার থেকে বুধবার পশ্চিমাঞ্চলের তাপমাত্রা উঠে যেতে পারে ৪২ ডিগ্রির কাছাকাছি। কলকাতা এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলে পারদ ৩৯ ডিগ্রি ছুঁয়ে ফেলতে পারে। তবে কলকাতার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করবে প্রবল আর্দ্রতা, যার ফলে আগামী তিন দিন মারাত্মক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে সাধারণ মানুষকে।

তবে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা এক্কেবারে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বুধবার পর্যন্ত প্রবল গরমের সম্ভাবনা থাকলেও, এই গরমের জেরেই দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্ত ভাবে স্থানীয় বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হতে পারে। এই মেঘ থেকে সাময়িক হালকা ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে স্বস্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন রবীন্দ্রবাবু।

এই মুহূর্তে ঝাড়খণ্ডের ছোটোনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে পারদ ৪৩ ছুঁয়েছে। আগামী তিন দিনে সেটা ৪৫ ছুঁয়ে ফেলতে পারে। এই প্রবল গরমের ফলেই কিছু দিনের মধ্যেই সেখানে তৈরি হতে পারে একটি ঘূর্ণাবর্তের। ছোটোনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হতে দক্ষিণবঙ্গে কী হতে পারে, এত দিনে অনেকেই জেনে গিয়েছেন। হ্যাঁ, তখনই প্রবল বৃষ্টি নিয়ে রাজ্যে হানা দিতে পারে শক্তিশালী কালবৈশাখী।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here