বৃষ্টিতে শতরান হাঁকাল বাঁকুড়া, কলকাতা, ক্যানিং, জলযন্ত্রণা থেকে এখনই রেহাই নেই

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: কোনো নিম্নচাপ নেই। রয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত আর একটি মৌসুমি অক্ষরেখা। এর প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গে অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বর্ষা। সরকারি ভাবে বর্ষার শুরুর সপ্তাহেই এই পরিমাণ সক্রিয়তা দেখাই যায় না দক্ষিণবঙ্গে। কিন্তু এ বার দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে কার্যত জল থইথই অবস্থা। পরিস্থিতি যা, তাতে রবিবারের আগে এই জলযন্ত্রণা থেকে কোনো রেহাই নেই।

ঘূর্ণাবর্ত আর মৌসুমি অক্ষরেখার জোড়া ফলা

প্রবল বৃষ্টির এই ধারাটি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার থেকে। উল্লেখ্য, বর্ষার শুরুতেই এ বার বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়ে যায়। ওই নিম্নচাপটি বেশি শক্তি না বাড়ালেও বেশ কিছু দিন ধরে স্থায়ী ছিল সে। তার পর স্থলভাগে প্রবেশ করে পূর্ব উত্তরপ্রদেশে গিয়ে সে দুর্বল হয়ে যায়। ওই নিম্নচাপটি দুর্বল হওয়ার পথে একটি কাজের কাজ করে দিয়ে যায়। সক্রিয় করে দিয়ে যায় মৌসুমি অক্ষরেখাকে।

Loading videos...

মৌসুমি অক্ষরেখা হল একটি কাল্পনিক রেখা। বর্ষাকালে সাধারণ ভাবে পঞ্জাব থেকে হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড হয়ে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এটি। তবে কখনও কখনও সেটি কিছুটা ওপরে উঠে উত্তরবঙ্গেও চলে যায়, আমার কখনও সেটা কিছুটা নীচে নেমে ওড়িশার দিকেও চলে যায়। উত্তরবঙ্গ বা ওড়িশার দিকে এই অক্ষরেখা সরে গেলে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কমে যায়। শুরু হয় ‘মনসুন ব্রেক।’

সেই অক্ষরেখাটি বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গের ওপরে দিয়ে শুধুই বিস্তৃতই হচ্ছে না, এটি শক্তিশালী হয়ে গিয়েছে। এর মূল কারণ দু’টি ঘূর্ণাবর্ত। বর্তমানে একটি ঘূর্ণাবর্ত এক্কেবারে দক্ষিণবঙ্গের ওপরে অবস্থান করছে। অন্য একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে পূর্ব উত্তরপ্রদেশে। এই দুই ঘূর্ণাবর্ত বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণে জলীয় বাষ্প নিজেদের দিকে টেনে আনছে। এর ফলেই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এই অক্ষরেখা। এর ফলেই শুরু হয়েছে এই অতিবৃষ্টি।

কোথায় কত বৃষ্টি হয়েছে

গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের তিন জায়গায় বৃষ্টির পরিমাণ শতরান হাঁকিয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ক্যানিংয়ে (১৭৮ মিলিমিটার)। এর পরেই রয়েছে কলকাতার আলিপুর (১৪৪ মিলিমিটার) এবং বাঁকুড়া (১৩৩)। আবার অন্য দিকে, কলকাতারই অপর প্রান্তের দমদমে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৫১ মিলিমিটার, ব্যারাকপুরে (৩৮ মিলিমিটার) হয়েছে আরও কম। আবার ক্যানিংয়ের কাছাকাছি হলেও ডায়মন্ড হারবারে মাত্র ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আসলে এটাই এই ধরনের বৃষ্টির বৈশিষ্ট্য। স্থলভাগে থাকা কোনো ঘূর্ণাবর্ত যদি নিজের দিকে ব্যাপক ভাবে জলীয় বাষ্প টানতে শুরু করে, তা হলে বায়ুমণ্ডলে মেঘের একটা সুনির্দিষ্ট রেখা হয়ে যায়। ওই মেঘের তলায় যে জায়গাগুলি পড়বে, সেখানে বিপুল পরিমাণে বৃষ্টি হবে, যে জায়গা ওই রেখার বাইরে থাকবে সেখানে অতটাও বৃষ্টি হবে না।

বাঁকুড়ায় অতিবৃষ্টির কারণ কী

বুধবার রাতে এমনই মেঘের রেখা ক্যানিং থেকে দক্ষিণ কলকাতার ওপরে তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এর বাইরে রয়ে গিয়েছিল ডায়মন্ড হারবার এবং দমদম। সে কারণেই এই সব অঞ্চলে বৃষ্টি ততটাও হয়নি। আবার বাঁকুড়ার বৃষ্টিটার পেছনে ভূ-প্রকৃতিগত কারণও দায়ী।

এই প্রসঙ্গেই বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা বলেন, “সমুদ্রতল থেকে বাঁকুড়ার গড় উচ্চতা ৭৮ মিটার, অন্য দিকে পড়শি পুরুলিয়ার উচ্চতা ২৪০ মিটার। জলভরা কিউমুলোনিম্বাস মেঘ যখন পশ্চিম দিকে সরতে শুরু করে তখন এই বাঁকুড়া পেরোনোর পর, উচ্চতার জন্য পুরুলিয়ায় ঢুকতে পারে না। সেই মেঘ বাঁকুড়ার ওপরে ভেঙে যায়, এর জন্যই বাঁকুড়ায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এত বেশি।” উল্লেখ্য, গত দু’ দিনে বাঁকুড়ায় ৩৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে।

বৃষ্টির দাপট কমবে কবে?

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এই জলযন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। দক্ষিণবঙ্গের ওপরে ঘূর্ণাবর্তটি এখনও শক্তিশালী। ফলে শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েই গিয়েছে।

তবে সব জায়গায় সমান পরিমাণে বৃষ্টি হবে না। কিন্তু কোথায় কত পরিমাণে বৃষ্টি হবে, সেটাও আগাম আন্দাজ করা যাবে না। বুধবারের রাতের মতো ওই মেঘের রেখা যদি বৃহস্পতিবার রাতেও দক্ষিণ কলকাতার ওপরে তৈরি হয়ে যায়, তা হলে ফের একবার অতি ভারী বৃষ্টির কবলে পড়বে এই সব অঞ্চল। আবার অন্যটাও হতে পারে। মেঘের রেখা তৈরি হল পূর্ব মেদিনীপুরের ওপরে, ফলে এ দিন সেখানে ভারী বৃষ্টি হল।

শনিবার পর্যন্ত এ ভাবেই দফায় দফায় বৃষ্টি চলতেই থাকবে দক্ষিণবঙ্গে। রবিবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হবে। বর্ষার স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই ‘মনসুন ব্রেক’ শুরু হতে পারে দক্ষিণবঙ্গের ওপরে। ফিরতে পারে অস্বস্তিকর গরমও।

আরও পড়তে পারেন ফেরানো হল কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা, কী পেতেন আর কী পাচ্ছেন মুকুল রায়?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.