প্রতীকী ছবি। নিজস্ব চিত্র।

কলকাতা: মরশুমের সর্বাধিক বৃষ্টির কবলে পড়ল শহর কলকাতা। সোমবার রাতভর মুষলধারে বৃষ্টির ফলে এক দিকে যেমন শহরে তৈরি হওয়া বৃষ্টির ঘাটতি কমিয়ে দিয়েছে, তেমনই জলমগ্ন হয়ে পড়েছে শহরের বিভিন্ন এলাকা। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এই পরিস্থিতি এ রকমই থাকবে বলে জনিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

রবিবার তুলনামূলক শুকনো দিন ছিল কলকাতায়। সোমবারও সকালে সে ভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো বৃষ্টি হয়নি শহরে। কিন্তু সন্ধ্যা হতেই বদলে গেল পরিস্থিতি। সাড়ে সাতটা নাগাদ শহরের উত্তর প্রান্তে ঝেঁপে বৃষ্টি নামে, তার ঠিক এক ঘণ্টা পর বৃষ্টি শুরু হয় দক্ষিণ কলকাতায়। কখনও অঝোর ধারায়, কখনও একটু কম, এই নিয়েই প্রায় সারা রাত বৃষ্টি চলে শহরে। সেই সঙ্গে ছিল বিদ্যুতের ঝলকানি এবং বজ্রপাত।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত আলিপুরে বৃষ্টি হয়েছে ১০৭ মিমি এবং দমদমে হয়েছে ১১০ মিমি, যা এই মরশুমে এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক বৃষ্টি। এই বৃষ্টির ফলে গত চার দিনের মধ্যে দ্বিতীয় বার জলমগ্ন হয়ে পড়ে কলকাতার বিস্তীর্ণ অংশ। প্রভাব পড়েছে যানচলাচল এবং ট্রেন চলাচলেও।

শুধু কলকাতাই নয়, জোর বৃষ্টি হয়েছে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে। আবহাওয়া দফতরের পুরো রিপোর্ট আসেনি, কিন্তু যতটা এসেছে তা থেকে দেখা যাচ্ছে মঙ্গলবার সাড়ে আটটা পর্যন্ত বোলপুরে বৃষ্টি হয়েছে ১৫৬ মিমি, বাঁকুড়ায় বৃষ্টি হয়েছে ৮০ মিমি।

বৃষ্টির ফলে পুকুর রাস্তা সব সমান, দমদমে

কী কারণে এত বৃষ্টি?

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার তথা আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার মতে, “এই মুহূর্তে দক্ষিণবঙ্গের ওপর সক্রিয় রয়েছে মৌসুমী অক্ষরেখা। তার ওপর বিহারে রয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। এই দুইয়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর হারে জলীয় বাষ্প ঢুকেছে। এর জন্যই ভারী বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে।” তিনি আরও জানান আগামী ৪৮ ঘণ্টাতেও এ রকম বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। ৪৮ ঘণ্টা পর বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে এবং তার জন্য আরও বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রবীন্দ্রবাবু।

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি ভারী বৃষ্টির ফলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে উত্তরবঙ্গেও।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here