north bengal rains
জলমগ্ন শিলিগুড়ি। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ি:  বৃষ্টিতে বেহাল উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স এবং তরাই এলাকা। রবিবার বিকেল থেকে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির ফলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদীগুলিতে জলস্তর বাড়তে শুরু করে দিয়েছে। আগামী অন্তত দু’দিন বৃষ্টির থেকে রেহাই মিলবে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

রবিবার সারা রাতই রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সব থেকে বেশি বৃষ্টি মূর্তিতে (৩৫০ মিমি)। তার পরে রয়েছে নাগরাকাটা (৩২০ মিমি)। এ ছাড়া ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে মালবাজার (৩০০ মিমি), হাসিমারা (২৯০ মিমি), বাগরাকোট (২৮০ মিমি), শিলিগুড়ি (২৫৭ মিমি), বক্সাদুয়ার এবং গজোলডোবা (২৫০ মিমি), সেবক (১৯০ মিমি), বাগডোগরা (১৫০ মিমি), আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি (১৩০ মিমি)। তুলনায় বৃষ্টির দাপট কম ছিল দার্জিলিং এবং কালিম্পঙের পাহাড়ে।

বিপর্যস্ত ট্রেন চলাচল

প্রবল বৃষ্টির ফলে আলিপুরদুয়ার এবং শিলিগুড়ির মধ্যে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ক্যারন এবং বানারহাট স্টেশনের মধ্যে রেললাইনের ওপর জল উঠে যায়। রেল দফতর সূত্রে জানা যায় যে কয়েক জায়গায় রেললাইন বসে গিয়েছে। উত্তরপূর্ব সীমান্তরেল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে শিলিগুড়ি জংশন এবং আলিপুরদিয়ারের মধ্যে চলাচলকারী দু’টো প্যাসেঞ্জার এবং দু’টো ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। একটি ট্রেন অংশত বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া ডাউন মহানন্দা লিঙ্ক এক্সপ্রেস ট্রেন এবং ক্যাপিটাল এক্সপ্রেস আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং নিউ জলপাইগুড়ির দিয়ে ঘুরিয়ে চালানো হবে। এ দিন সকালে শিয়ালদহ এবং আলিপুরদুয়ারের মধ্যে চলাচলকারী কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস ট্রেনটিকেও একই ভাবে নিউ জলপাইগুড়ি-নিউ কোচবিহার দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

বন্যা পরিস্থিতি

রেকর্ড বৃষ্টির ফলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদীতে জলস্তর বাড়তে শুরু করে দিয়েছে। শিলিগুড়িতে মহানন্দা নদীর জলস্তর বিপদসীমার কাছকাছি পৌঁছে গিয়েছে। নাগরাকাটায় গ্রাসমোর চা বাগানের কাছে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর একটি সেতু ঝোরার জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছে। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জন্য সেতুটি যান চলাচলের জন্য সাময়িক ভাবে বানানো হয়েছিল। লাটাগুড়ি এলাকায় কুমলাই এলাকায় রাস্তায় জল উঠেছে প্লাবিত। চ্যাংমারি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় খুলনাই নদীতে হঠাৎ জল বেড়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়াও জল জমেছে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার শহরের নিচু এলাকাগুলিতেও। বৃষ্টি চলতে থাকলে বন্যা পরিস্থিতি জটিল হওয়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেন এই বৃষ্টি, কী পূর্বাভাস আগামী দিনের?

এই মুহূর্তে মৌসুমি অক্ষরেখা উত্তরবঙ্গের ওপর দিয়েই বিস্তার করছে। এই অক্ষরেখায় বঙ্গোপসাগরের যাবতীয় জলীয় বাস্প টেনে নিচ্ছে নিজের দিকে। এর ফলেই এই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই পরিস্থিতিই বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সোমবার দুপুর বারোটার পরে বৃষ্টির দাপট অনেকটা কমলেও ফের সন্ধ্যার পরে বৃষ্টি শুরু হতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় চরম অতি ভারী, অর্থাৎ আড়াইশো মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে বুধবার থেকে স্বস্তির খবর শুনিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

এ বার পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে বর্ষার ঘাটতি যথেষ্ট বাড়ছিল। এই পরিস্থিতিতে এই বৃষ্টিপাত উত্তরবঙ্গের ছবিটা কিছুটা উন্নত করতে পারে বলেই আশাবাদী আবহাওয়া দফতর।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন