কলকাতা: অনাবৃষ্টির জাঁতাকলে পড়েছে দক্ষিণবঙ্গ। গত তিন বছরের মধ্যে সব থেকে ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন এই অঞ্চলের মানুষজন। কৃষকদের মাথায় হাত। বৃষ্টি কম হওয়ায় ভূগর্ভস্ত জলস্তরও ক্রমশ নেমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অবশেষে স্বস্তির খবর। আগামী দু’দিন রাজ্যে দক্ষিণবঙ্গে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা।

বৃষ্টি কম হওয়ায় এ বার দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঘাটতি ক্রমশ বাড়ছে। ১ জুন থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত যত বৃষ্টি হওয়ার কথা তার থেকে ৫০ শতাংশ কম হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগণায়। বাঁকুড়ায় বৃষ্টির ঘাটতি ৪৮ শতাংশ, কলকাতায় ৪৭ শতাংশ। দুই বর্ধমানে ঘাটতি ৪৬ শতাংশ করে। হাওড়া এবং পুরুলিয়াতে ঘাটতি ছুঁয়েছে ৪২ শতাংশ। হাওড়া এবং উত্তর ২৪ পরগণায় ঘাটতি ৪৩ শতাংশ করে।

কিছুটা ভালো অবস্থা পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের। এই তিন জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের মধ্যে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং বীরভূমে ঘাটতি ৬০ শতাংশেরও ওপরে।

সব মিলিয়ে এটা বলাই যায় যে দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি এ বার তথৈবচ। এই চরম ঘাটতি থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রয়োজন প্রবল বর্ষণ। আগামী দু’তিন দিন ঠিক সেই ধরনের বৃষ্টিরই প্রত্যাশা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। নেপথ্যে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি।

নিম্নচাপটি বর্তমানে গভীর নিম্নচাপের রূপ নিয়ে ওড়িশা উপকূলের ধারে বঙ্গোপসাগরের ওপরে অবস্থান করছে। এটির অভিমুখ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ উপকূল নয়। মূলত ওড়িশা হয়ে ছত্তীসগঢ়ের দিক দিয়ে এগোবে সে। তবে তার প্রভাব ভালো রকম পড়তে পারে দক্ষিণবঙ্গে। মঙ্গলবার এবং বুধবার, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের কিছু অঞ্চলে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগণা, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার দক্ষিণাংশ ভারী বর্ষণ পেতে পারে। অন্যদিকে, দুই বর্ধমানে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। নিম্নচাপ মধ্য ভারতের দিকে সরে গেলে সে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প নিজের দিকে টানতে থাকবে। সেই কারণেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিপুল পরিমাণে বৃষ্টির সম্ভাবনা।

ঠিক এই কারণেই দক্ষিণবঙ্গের কৃষককুল আসায় বুক বাঁধছে। এই মরশুমে বৃষ্টির অভাবে চাষাবাদে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করার জন্য প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি দরকার। আগামী দু’তিন দিন সেটাই হতে পারে একাধিক জেলায়। যদিও বীরভূম, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদে এ বারও বৃষ্টির ভাঁড়ার খালিই থাকবে সম্ভবত।

আরও পড়তে পারেন

মাত্র ১৭ বছর বয়সে ব্রিটিশের গুলিতে প্রাণ দিয়ে শহিদ হন কনকলতা বরুয়া

প্রবল সাহস ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে রানি রাসমণি বার বার লড়েছেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে

গোয়ালিয়রের ফুলবাগ এলাকায় ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে শহিদ হন ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ

তৃতীয় গুলি ফাটিয়ে দিল মাথার খুলি, লুটিয়ে পড়লেন ‘গান্ধীবুড়ি’, তখনও তাঁর বুকে চেপে ধরা ত্রিবর্ণ পতাকা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন