digha sea waves swell

ওয়েবডেস্ক: সকাল থেকে প্রবল হাওয়ার কবলে দক্ষিণবঙ্গ। হাওয়ার তাণ্ডব সব থেকে বেশি উপকূলবর্তী অঞ্চলে। এর ফলে শনিবার সকাল থেকেই দিঘা-বকখালিতে জলোচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। জলোচ্ছ্বাস এবং প্রবল হাওয়ার জন্য আগামী ৪৮ ঘণ্টা মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সমুদ্রতীরবর্তী স্থানগুলিতে, বিশেষ করে মন্দারমণিতে, বিনোদনমূলক খেলা বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়েছে হায়দরাবাদের ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফর্মেশন সার্ভিসেস (ইঙ্কোইস)।

কিন্তু কথা হল, এখন তো ভরা কোটালের সময় নয়, ঘূর্ণিঝড়ের কোনো ব্যাপারও নেই, তবুও এত হাওয়া এবং জলোচ্ছ্বাস কেন?

এখানে বলে রাখা ভালো, হাওয়া এবং জলোচ্ছ্বাসের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে কোনো সম্পর্কই নেই। প্রবল হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে শুধুমাত্র এ রাজ্য এবং ওড়িশা উপকূলে। কিন্তু জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা জারি রয়েছে সমগ্র পূর্ব উপকূল, কেরল এবং লাক্ষাদ্বীপেও।

কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষ শনিবার সকাল থেকেই হাওয়ার দাপট টের পাচ্ছেন। এর পেছনে অত্যধিক গরমই একটা কারণ। বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার মতে, প্রবল গরমের ফলে এই মুহূর্তে রাজ্যের মধ্যাঞ্চল এবং বাংলাদেশে নিম্নচাপ বলয় তৈরি হয়েছে। অন্য দিকে বঙ্গোপসাগরের ওপরে রয়েছে উচ্চচাপ বলয়। তাই স্বাভাবিক নিয়মেই উচ্চচাপের অঞ্চল থেকে প্রবল হাওয়া ধেয়ে যাচ্ছে নিম্নচাপের অঞ্চলে। তাই হাওয়ার এত দাপট। উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হাওয়া বইবে বলে জানানো হয়েছে।

এ বার আসা যাক জলোচ্ছ্বাসের প্রসঙ্গে। ইঙ্কোইস-এর তরফ থেকে আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা প্রবল জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, শনিবার কেরল উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের দাপট অনেক বেশি থাকবে। কিন্তু রবিবার জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব পড়তে শুরু করবে এ রাজ্যের উপকূলেও।

এ রকম জলোচ্ছ্বাসকে দক্ষিণ ভারতের ভাষায় বলা হয় কালাক্কাডাল, অর্থাৎ দুষ্টু সাগর। এ রকম অস্বাভাবিক আচরণের পেছনে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের আবহাওয়ার অবস্থাই মূল কারণ বলে জানানো হয়েছে। মাদাগাস্কার থেকে অস্ট্রেলিয়া উপকূল পর্যন্ত দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের বিস্তৃতি। এই অঞ্চলে শক্তিশালী নিম্নচাপ তৈরি হলেই ভারতের উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব পড়ে বলে জানিয়েছে ইঙ্কোইস।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে নিরক্ষরেখার ঠিক নীচে একাধিক নিম্নচাপ দেখা গিয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কিছু দিনের মধ্যেই উত্তর ভারত মহাসাগর অর্থাৎ ভারতীয় উপকূলের কাছেও নিম্নচাপ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই মার্কিন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা ভারত মহাসাগরের ওপরে নজর রাখছেন। তাঁদের ধারণা, কিছু দিনের মধ্যেই একটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হতে পারে এই অঞ্চলে। অনেকে মনে করছেন সেই নিম্নচাপ উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশার দিকে এগিয়ে আসবে। যদিও এত তাড়াতাড়ি সেই পূর্বাভাস করা বেশ চাপের বলেই মনে করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তবে যদি এ রকম নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় তা হলে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গে ভালো বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আপাতত নিম্নচাপের কথা বিশেষ চিন্তা না করে রাজ্যের সমুদ্রের কথা ভাবাই ভালো। ইঙ্কোইস জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এ রকম জলোচ্ছ্বাস জারি থাকবে। কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গকে বিশেষ ভাবে সতর্ক করে দিয়েছে ইঙ্কোইস। জানিয়ে দিয়েছে জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে উপকূলবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা তো রয়েছেই। তার ওপরে বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে মন্দারমণিতে সমুদ্রে যে বিনোদনমূলক খেলাগুলি হয়, সেগুলিও বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়েছে ইঙ্কোইস।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here