Samir mahat
সমীর মাহাত

ঝাড়গ্রাম: কি বাম কি ডান, দরিদ্র মহিলাদের মাথায় ভারী কাঠের বোঝা, এর কোনও পরিবর্তন ঘটেনি ঝাড়গ্রাম-সহ গোটা জঙ্গলমহলে। না হলে এঁদের উনুনে হাঁড়ি চড়বে না যে! এই পরিস্থিতির অবসান কল্পে কেন্দ্রীয় সরকার বিপিএল মহিলাদের জন্য সারা দেশে চালু করেছে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা। এ রাজ্যে এক কোটির উপর দরিদ্র মহিলাকে রান্নার গ্যাস দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে সরকার। আবার, ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত এই গ্যাস পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য দ্বিতীয়, পেয়েছেন সাড়ে ঊনিশ লক্ষ গ্রাহক। এই লক্ষ লক্ষ প্রাপকদের মধ্যে মাথায় কাঠের বোঝা মহিলারা কী ভাবে বঞ্চিত হলেন!

বঞ্চিত মহিলাদের কথায়,”গাঁয়ের অনেকেই পেয়েছে। আমাদের নাকি বিপিএলে নাম নেই।” প্রসঙ্গত, জঙ্গলমহলে বিপিএল সমস্যা দীর্ঘদিনের । বাম আমলেই তৈরি হয় বিপিএল তালিকা। তখনও দলীয় স্বজনপোষণের অভিযোগ ওঠে। পরে আর্থ-সামাজিক গণনা ২০১১-এর আদমসুমারির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয় বিপিএল তালিকা। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় বেশির ভাগ যোজনার প্রাপকদের ক্ষেত্রে এই তালিকায় বহাল রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে অধিক সমস্যা জঙ্গলমহলে। কেননা এই গণনার সময় পুরোপুরি সন্ত্রাসমুক্ত ছিল না এলাকা, অনেকেই ঘরছাড়া ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এ রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পরই এলাকায় চালু হয় সবুজ রঙের বিপিএল রেশন কার্ড। গ্রাম্যস্তরের দরিদ্র মহিলারা ধরে নিয়েছিলেন, “সবাই বিপিএল হয়ে গিয়েছি”। গ্যাস পাওয়ার আবেদন করতে গিয়ে তাঁরা বোঝেন, এই বিপিএল এ কাজ হবে না।

এক প্রাক্তন আমলা বলেন, পঞ্চায়েত স্তরে প্রশাসনিক ভাবে গ্রামসংসদ সভা হয়। সভায় সমস্ত রকমের অভাব-অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয়ে শীর্ষ প্রশাসনে জানালে এই সমস্যাগুলির সমাধান হবে। তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতা বলেন, “প্রায় সমস্ত ব্লকের মহিলারা কিছু কিছু এই প্রকল্পের গ্যাস পেয়েছেন, বিপিএল সমস্যা বাম আমলের, আমাদের নয়”। বিজেপির এক জেলা নেতা বলেন, “শুধু উজ্জ্বলা নয়, চাল, আবাস যোজনা অনেক কিছুই কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে এরা রাজ্যের বলে প্রচার করছে। পঞ্চায়েত স্তরে ওরাই ক্ষমতায় ছিল।ফলে নিচু তলার মানুষের সমস্যা সমাধান হয়নি”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here