নারদ মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর হলফনামা গ্রহণ নিয়ে বুধবার রায় দিতে পারে কলকাতা হাইকোর্ট

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: নারদ মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটকের হলফনামা গ্রহণ নিয়ে বুধবার রায় দিতে পারে কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবারের শুনানিতে হাইকোর্ট জানায়, ওই হলফনামা জমা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।

গত ৯ জুন হাই কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর হলফনামা জমা দিতে চায় রাজ্য। কিন্তু ওই দিনের শুনানিতে তা প্রত্যাখ্যান করে আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক আর্জি জানিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। ২৫ জুন সর্বোচ্চ আদালতের অবকাশকালীন বেঞ্চ নারদ মামলায় তাঁদের হলফনামা জমা না নেওয়া সংক্রান্ত মামলাটি হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিনীত সরণ এবং দীনেশ মাহেশ্বরীর অবকাশকালীন বেঞ্চ আবেদনকারীদের নির্দেশ দেয়, হলফনামা দাখিলের জন্য ২৮ জুনের মধ্যে তাঁদের আবেদন জানাতে হবে হাইকোর্টে। তার আগের দিন, অর্থাৎ ২৭ জুনের মধ্যে সিবিআই-কে অগ্রিম অনুলিপি দিতে হবে। সেই আবেদনের জবাব দেওয়ার জন্য সিবিআইকে স্বাধীনতা দেয় আদালত।

কী বলল হাইকোর্ট?

হাইকোর্টে মঙ্গলবারের শুনানিতে রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, “হলফনামার অগ্রিম কপি সিবিআইকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সিবিআই রাজ্যের দায়ের করা আবেদনের বিরোধিতা করছে”। অন্য দিকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “১৭ মে থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পরিকল্পিত ভাবেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হলফনামা জমা দেননি মুখ্যমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রী”।

দু’পক্ষের বক্তব্যের পরে বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্য যদি সঙ্গে সঙ্গে হলফনামা জমা দিত, তবে তা স্বতঃস্ফূর্ত হতো। দেরি হওয়ার কারণে এটি ভাবনা চিন্তার পর্যায়ে রাখতে পারি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা একে রেকর্ড হিসাবে নিয়ে আইনিভাবে পর্যালোচনা করব কি না। সেই বিষয় পরে দেখা যেতে পারে”।

কী কারণে আবেদন?

কলকাতা হাইকোর্ট
[কলকাতা হাইকোর্ট। প্রতীকী ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে]

নারদ মামলায় গত মাসে চার নেতা-মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে সিবিআই। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সিবিআই দফতরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা, ধর্নায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্য দিকে জামিনের শুনানি চলাকালীন আদালত চত্ত্বরে আইনমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

নারদ মামলা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সিবিআইয়ের আবেদনের শুনানি করে কলকাতা হাইকোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ। গ্রেফতারের দিন নিজেদের ভূমিকা নিয়ে গত ৯ জুন হাইকোর্টে হলফনামা জমা করার আবেদন জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। কিন্তু হাইকোর্ট সেই হলফনামা জমা নেয়নি। বলা হয়, এক পক্ষের সওয়াল শেষ হওয়ার পর নতুন করে ওই হলফনামা জমা নিলে তার উপর আবার আলোচনা হবে। হাইকোর্টের ওই নির্দেশের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সর্বোচ্চ আদালতে তাঁর আর্জি মান্যতা পাওয়ায় ফের তিনি হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন।

আরও পড়তে পারেন: ‘অস্ত্র’ কিনতে মায়ের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩.২ লক্ষ টাকা সাফ করে দিল ১২ বছরের ছেলে!

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন