toilet21

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ছাত্রীদের শৌচালয়ে লজ্জা লুকোনোর কোনো উপায় নেই, জামবনির ঝাড়েশ্বর হাইস্কুলের ছাত্রীদের স্কুল সময় কাটছে আশঙ্কা আর আতঙ্কে।

নজরে জামবনি ৯ নম্বর কেঁদডাংরি অঞ্চল

এই পঞ্চায়েতে উন্নয়নের ছবিই প্রধান প্রচারের হাতিয়ার শাসক দলের কাছে। জামবনির নয় নম্বর কেঁদডাংরি অঞ্চলের ঝাড়েশ্বর হাইস্কুলের ছাত্রীদের শৌচালয়ের অবস্থা দেখে এক লহমায় ভিরমি খাওয়ার জোগাড়। বিরোধী শিবির বলতে শুরু করেছে, এই স্কুলই তো এলাকার ভোটকেন্দ্র। সবাই নিজের চোখে ভোট দিতে এসে দেখে যাবেন, এই স্কুলের ছাত্রীদের শৌচালয়ের দুরবস্থা। স্কুলটি পড়শুলি গ্রামে অবস্থিত। পাশের এক কিমির মধ্যে অনগ্রসর কল্যাণমন্ত্রী চূড়ামণি মাহাতর মামার বাড়ি, তাড়কিনাটা গ্রাম। ছোটো বেলায় কয়েক বছর মামা বাড়িতে কাটানোর সুবাদে এই স্কুলও তাঁর চেনা।

toilet2

ঝাড়খন্ড সীমান্তবর্তী জুহাশোল, পিঁড়রাগেড়িয়া, তাড়কিনাটা, মালবাঁধি, আস্তি, আহারমুঢ়া, ফুলবেড়িয়া, বাকড়া, তাড়কিনাটা-সহ ১২-১৪টি গ্রামের একমাত্র ভরসা এই স্কুল । ছাত্রীদের শৌচালয় তৈরি হয় ২০১২ সালে। নামমাত্র অ্যলুমিনিয়ামের দরজা দিয়ে। কয়েক মাসের মধ্যেই সেগুলি ভেঙে যায়। বছরভর তা ঠিক করা হয়নি বলে অভিযোগ। গত পঞ্চায়েত
নির্বাচনের কয়েক মাস পর এক ছাত্রীর অভিযোগে নড়েচড়ে বসে গ্রামবাসীরা। রাস্তা থেকে শৌচালয়ের ছবি তুলে ছাত্রীদের অসম্মান করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গ্রামবাসীরা সালিশির মাধ্যমে স্কুলে মোবাইল না নিয়ে আসার ফতোয়া জারি করে বলে জানান গ্রামবাসীরা। তবে এই নিয়ম বেশি দিন টেকেনি। কিন্তু শৌচালয়টিও একই অবস্থায় পড়ে থাকে।

এই স্কুল নির্মাণে গ্রামের বাসিন্দা অনিল মাহাত ও কয়েক জন জায়গা দান করেন। স্বীকৃতি মেলার আগে স্কুলের নাম ছিল, নেতাজি জুনিয়র হাইস্কুল। ঘটনা চক্রে অনিলবাবুর ছয় বছরের সন্তান ঝাড়েশ্বরের অকাল মৃত্যু ঘটে। সেই থেকে স্কুলের এই নাম হয়। এই স্কুলের ইনচার্জ পাপড়ি মাহাত ঝাড়গ্রাম শহরের বাসিন্দা। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি। বরং বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমাকে এ সব কেন জিজ্ঞেস করছেন, আমি এ সব জানাতে বাধ্য নয়”। স্থানীয় তৃণমূলের এক নেতা বলেন, ওই স্কুলে কয়েক লক্ষ টাকার উন্নয়নে নতুন আদিবাসী ছাত্রাবাস তৈরি হয়েছে, সব হবে তবে সময় লাগবে।

বিজেপির জামবনি মণ্ডলের নেতা কৃষ্ণপদ মাহাত বলেন, “দিদি তো স্কুলে স্কুলে রং করে উন্নয়ন করছেন। ওই স্কুলের ছাত্রীদের কি অবস্থা কেউ ফিরেও তাকায়নি”।

“কেন এই অবস্থা ওই স্কুলের শৌচালয়ের, স্থানীয় নেতৃত্বর সঙ্গে কথা বলে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলব”, জানান মন্ত্রী চূড়ামণি মাহাত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here