নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : বেশ কিছু দিন ধরেই গায়েব হয়ে যাচ্ছিল এলাকার ছাগল-মুরগি। বাসিন্দারা কিছুতেই হদিশ করতে পারছিলেন না কী ভাবে হাপিস হয়ে যাচ্ছে পোষ্য প্রাণীগুলো। কারণ কোনো বন্যজন্তু খেলে তার হাড়গোড় পড়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে তাও পাওয়া যায়নি। চুরি হচ্ছে ভেবে বেশ কিছু দিন সারা ক্ষণ পাহারা দিয়েও লাভ হয়নি। স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কে ভুগছিল জলপাইগুড়ির প্রত্যন্ত হিরাবাড়ি গ্রাম। শেষমেষ বুধবার দিনের আলোয় পাকড়াও হল সে। ১৮ ফুট লম্বা ‘বিভীষিকা’ একটি অজগর।

বুধবার দুপুরে বাড়ির পেছনের ঝোপে পোষ্য ছাগলের চিৎকার শুনে দৌড়ে যান স্থানীয় তুলা মহম্মদ। সেখানে গিয়ে তাঁর চক্ষু চড়ক গাছ। দেখতে পান এক বিশালাকার অজগর আস্ত ছাগল গিলে খাচ্ছে। সাপটি এতই বড়ো যে তার লেজ কোথায় তাই বুঝতে পারছিলেন না তুলা মহম্মদ। তাঁর চেঁচামেচি শুনে ছুটে আসেন গ্রামবাসীরা। এত মানুষের চিৎকারে বোধ হয় কিছুটা ভড়কে গিয়েই ছাগলটিকে ছেড়ে দেয় অজগরটি। যদিও সেটি তত ক্ষণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি ১৮ ফুটেরও বেশি লম্বা অজগরটি। এলাকায় অজগরের আনাগোনা থাকলেও এত বড়ো সাপ কেউ দেখেননি বলে জানিয়েছেন, অসীম রায় নামের এক তরুণ। এর পর খবর দেওয়া হয় বৈকুন্ঠপুর বনবিভাগের বেলাকোবা রেঞ্জে। সেখনাকার রেঞ্জার সঞ্জয় দত্ত তার উদ্ধারকারী টিম নিয়ে আসেন। বিশাল জাল বিছিয়ে অজগরটিকে পাকড়াও করার সময় অজগরটি এক বনকর্মীকে আক্রমণ করে। তাতে ওই বনকর্মী সামান্য জখম হয়েছেন। এর পর গ্রামবাসীদের চেষ্টায় অজগরটি পাকড়াও করতে সক্ষম হন বনকর্মীরা। সেটিকে নিয়ে যাওয়া হয় বেলাকোবার রেঞ্জ অফিসে। রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসার পর অজগরটিকে বৈকুন্ঠপুরের জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। তাঁর দাবি বার্মিজ প্রজাতির এত বিশালাকার অজগর এই এলাকায় দুর্লভ। জলপাইগুড়ির সর্প বিশেষজ্ঞ শ্যামাপ্রসাদ পান্ডে জানিয়েছেন, এটি পূর্ণবয়স্ক বার্মিজ প্রজাতির অজগর। সম্ভবত সহজ শিকারের লোভেই লোকালয়ে আস্তানা গেড়েছিল সে। তবে মূর্তিমান আতঙ্কের হাত থেকে রেহাই পেয়ে হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছে গোটা গ্রাম।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here