vote hembram
rintu brahma
রিন্টু ব্রহ্ম

সকাল থেকেই প্রচণ্ড গরম । তার উপর নির্বাচনের জন্য উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। চারিদিকে কংগ্রেসেরই আধিপত্য। গ্রামের মানুষ সকাল সকাল ভোট সেরে আসছেন, তাড়াতাড়ি ফিরে আবার মাঠে কাজে যাবেন বলে। ওই একই চিন্তাভাবনা করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন অবিভক্ত বর্ধমানের কান্টিয়া গ্রামের বাসিন্দা অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ রসবতী হেমব্রম। আদিবাসী রমণী  রসবতীর সঙ্গে ছিলেন স্বামী নারায়ণ হেমব্রম।

কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পরই প্রচণ্ড প্রসবযন্ত্রণা উঠল রসবতী দেবীর। কোন ক্রমে বাড়ি ফিরে এলেন। সেখানেই জন্ম দিলেন এক পুত্রের। সালটা ১৯৭২। ভোটের দিনে জন্ম নেওয়ায় রসবতীর বাড়িতে নবজাতকের নাম রাখা হল ‘ভোট’ । হ্যাঁ, সরকারি ভাবেই সমস্ত পরিচয়ে লেখা হয় ভোট হেমব্রম। নাম নিয়ে মানুষের হাসিরও পাত্র হয়েছেন বহু বার। তবু নাম বদলাননি ভোটবাবু। বাবা-মায়ের দেওয়া ‘ভোট’ নামটি যে এক দিন এ ভাবে সার্থক হবে তা ভাবতেও পারেননি ভোটবাবু।

৪৬টা বছর পেরিয়ে গিয়েছে। ঘুরে ফিরে আবার এসেছে ভোট। তবে এ বার পঞ্চায়েত ভোট। গণতান্ত্রিক উৎসবের প্রতীক ভোটবাবু নিজেই এ বার নেমেছেন ভোটের লড়াইয়ে। জন্মস্থান রায়ান গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রার্থী হয়েছেন একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের হয়ে। বাবা-মা বেঁচে থাকলে খুব খুশি হত, বললেন ভোটবাবু । ভোটের চার বছর বয়সে মা মারা যান, ১৬ বছর বয়সে বাবা। তার পর থেকে একাই লড়ছেন জীবনে। তবে ভোটবাবুর স্পষ্ট কথা, মনোনয়ন তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে অনেক, তবু তিনি ভোটে লড়ছেন। ভোটে জিতে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করবেন বলে দাবি জানালেন ভোটবাবু।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here