Purulia

শুভদীপ চৌধরী, পুরুলিয়া: পুরুলিয়া বললেই মাথায় আসে ছৌ, পাহাড়, প্রকৃতি ও ইতিহাস । ১ নভেম্বর এই জেলার জন্মদিবস । ঠিক ৬৩ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর বিহারপ্রদেশ ভেঙে জন্ম হয় পুরুলিয়া জেলার । তাই ১নভেম্বর শুধুমাত্র পুরুলিয়াবাসীর কাছেই নয়, গোটা রাজ্যের কাছে স্মরণীয় বিষয় ।

ঐতিহাসিক নিদর্শনের জেলা পুরুলিয়াকে ঘিরে তার এই জন্মদিবস নিয়ে আয়োজিত হয় না তেমন বড়ো কোনো অনুষ্ঠান, অন্যদিকে জেলার মানুষ আজ এই জেলার জন্মদিবসও প্রায় ভুলতে বসেছেন। তবু বঙ্গভুক্তির সময় গড়ে ওঠা ‘লোকসেবক সঙ্ঘ’ এই দিনটিকে পালন করে চলে আজও । এককথায় জেলা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের এ ব্যাপারে মাথাব্যথা না থাকলেও লোকসেবক সঙ্ঘের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে এ দিনটি পালিত হয় পুরুলিয়া জেলায় ।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীনতা পায় পুরুলিয়া জেলা, কিন্তু পশ্চিমপ্রান্ত ‘মানভূম’ ছিল তখনও বিহারের অন্তর্গত । যদিও এখানকার সমস্ত বাসিন্দারাই ছিলেন বাঙালি ও বাংলাভাষী কিন্তু বিহারের শ্রীকৃষ্ণ সিংহের সরকার তখন ক্ষমতায় থাকায় সকলের ওপর জোর করে চাপিয়ে দিতে চান হিন্দি ভাষা । এর পরেই প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন মানভূমবাসী ও ঠিক এই সময়ই তাদের নেতৃত্ব দিতে তৈরি হয় লোকসেবক সঙ্ঘের । তৎকালীন মানভূম জেলার সকল শ্রেণীর মানুষ একত্রিত হয়ে জেহাদ ঘোষণা করেন শ্রীকৃষ্ণ সিংহের সরকারের বিরুদ্ধে । অতুলচন্দ্র ঘোষ ও লাবণ্যপ্রভা ঘোষের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের জন্য উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা মানভূম জেলা ।

১৯৫৬ সালের এপ্রিল মাসে ১০১৫ জন সত্যাগ্রহী পুঞ্চার পাঞ্চবিড়রা গ্রাম থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে শুরু করেন পদযাত্রা । অবশেষে ১৭ দিন পর সত্যাগ্রহীরা পৌঁছন কলকাতায় । বঙ্গভুক্তির দাবিতে তাঁরা সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে গেলে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় বিক্ষোভকারী দল, যদিও পরে সকলেই ছাড়া পান ব্যক্তিগত চুক্তিতে। এই বিক্ষোভের খবর ক্রমে ছড়ায় দিল্লিতেও । যদিও সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বাংলার ডা. বিধানচন্দ্র রায় । বঙ্গভুক্তির এই আন্দোলন তীব্র রূপ নিতে থাকায় রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বিহার প্রদেশের মানভূম জেলার ২টি থানাকে বাংলার অন্তর্ভুক্ত করে নতুন জেলা গঠনের নির্দেশ দেন ।

এদের মধ্যে চান্ডিল, পটমদা ও ইচাগড়কে পশ্চিমবঙ্গে অন্তর্ভুক্ত না করার দাবি জানায় টাটা কোম্পানি, কারণ এই তিনটি থানা ঘেঁষে জামশেদপুরে টাটা কোম্পানির মোটর গাড়ি তৈরি ও লৌহ ইস্পাতের বিশাল শিল্প গড়ে উঠেছে । জেলা ভাগ হলে শিল্পে  বড়ো প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় ওই তিন থানাকে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্তি না করে বিহার প্রদেশে রাখার আবেদন জানায় টাটা কোম্পানি । ফলে মোট ১৬টি থানাকে নিয়ে ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গের নতুন জেলা পুরুলিয়া জেলা ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here