‘দিলীপ ঘোষরাও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করিয়ে রাখুন’, আরামবাগের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

0

হুগলি: বৃহস্পতিবার আরামবাগের দলীয় সভা থেকে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বিজেপির ধর্ম অস্ত্র, জাতপাত নিয়ে আর আমাদের ধর্ম কাজ, উন্নয়ন, ভাত নিয়ে। আমাদের সরকার ১০ বছরের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেছে, হিম্মত থাকলে সাত বছরের রিপোর্ট কার্ড পেশ করুক মোদী সরকার”।

এ দিনের সভায় বিপুল সংখ্যক জনসমাগম দেখে অভিষেক বলেন, “মানুষের উদ্দীপনা দেখে মনে হচ্ছে, ইতিমধ্যেই নির্বাচনে জয়লাভ করেছে তৃণমূল। লকডাউনের সময় আমরা মানুষের পাশে ছিলাম। রাজনীতি করিনি। দলের নেতা-কর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমরা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাই না”।

বিজেপিকে এক হাত নিয়ে অভিষেক বলেন, “আগে ছিল সিপিএমের হার্মাদ, এখন বিজেপির জল্লাদ। কেউ যদি মনে করে আবার সেই হার্মাদদের ফিরিয়ে নিয়ে আসবে, তা হলে রাজ্যের মানুষের তাদের বাড়াভাতে ছাই ঢেলে দেবে। বিজেপি এখন রাজ্যের ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। বিজেপি ভাবছে সিপিএমের হার্মাদদের নিয়ে ভোটে জিতবে। কেউ যদি হিংসা-সন্ত্রাসের কথা ভাবেন, তা হলে রাজ্যের মানুষ তাঁদের রুখে দেবেন”।

দু’দিনের রাজ্য সফরে এসে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা গতকাল বলেন, এ বারের ভোটে বিজেপি দু’শোর বেশি আসনে জিতবে। এ প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, “পরিসংখ্যান নিয়ে লড়াই করুন। রাজনৈতিক ভাবে লড়তে প্রস্তুত তৃণমূল। আমরা রাজনৈতিক ভাবে বিরোধীদের হারাতে সক্ষম। জেপি নড্ডা বলছেন, ‘আমরা দু’শোর বেশি আসন পাব’। আমি আজ বলে দিয়ে যাচ্ছি, এই হুগলিতে বিজেপির খাতা খোলার মতো কেউ থাকবেন না। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নবান্নে ফিরবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”।

দুয়ারে সরকার‘ চালু করেছে রাজ্য সরকার। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগড়ায় পৌঁছে দিতে শিবির করছে রাজ্য। বিজেপি সেই প্রকল্প বন্ধ করতে চাইছে বলে অভিযোগ করে অভিষেক বলেন, “রাজ্যের প্রত্যেক মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ড চালু করা হয়েছে। তাই দিলীপ ঘোষও এখন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করিয়ে রাখুন। মমতা ফের ক্ষমতায় আসবেন, বিজেপি নেতারা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবেন। ভোটের পরে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখিয়ে চিকিৎসা করাবেন বিজেপি নেতারা”।

আগামী বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে এ দিন ১০ বছরের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেছে রাজ্য। অভিষেক বিজেপির উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “মমতা সরকার ১০ বছরের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেছে। হিম্মত থাকলে কেন্দ্রের মোদী সরকার সাত বছরের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করুক”।

আরও পড়তে পারেন: জেপি নড্ডার পথে ধন্ধুমার, অশান্তির অভিযোগে চাপান-উতোর

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন