দ্বারকেশ্বরের ভয়াল রূপ হারাল আটাত্তরের স্মৃতিকেও, বন্যায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন আরামবাগ

0

আরামবাগ: অতিবৃষ্টি এবং প্লাবনের সাঁড়াশি আক্রমণে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে হুগলির আরামবাগ মহকুমা অঞ্চল। চারটে নদনদী খেলা এই মহকুমার ৬টি ব্লকের মোট ৬৩টি পঞ্চায়েতের প্রত্যেকটিই জলের তলায় চলে গেল। বন্যার বলি হয়েছেন দু’জন। সড়কপথে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে এই শহর। আকাশপথে শনিবার আরামবাগ পরিদর্শন করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দ্বারকেশ্বর নদের পাড় ভেঙে প্লাবিত হয়েছে গোঘাট-১ ব্লকের বালি পঞ্চায়েত এলাকা। শুক্রবার সকালে এখানকার লক্ষ্মীপুরে দামোদরপুর-আরামবাগ রোডে জল দেখতে গিয়ে স্রোতে ভেসে যায় শিবু দাস (১৭) নামে এক তরুণ। স্রোত থেকে বাঁচতে তাঁর এক বন্ধু বিদ্যুতের খুঁটি আঁকড়ে ধরে। স্থানীয়েরা তাকে উদ্ধার করেন। বিকেলে স্থানীয় ধানজমি থেকে শিবুর দেহ উদ্ধার হয়।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে এই পঞ্চায়েতেরই দিঘরা গ্রামে মাটির বাড়ির দেওয়াল ভেঙে কমলা দাস (৯৭) নামে এক বৃদ্ধা মারা যান। প্রশাসন সূত্রের দাবি, বিকেল পর্যন্ত মহকুমায় ৫২ হাজারেরও বেশি লোককে উদ্ধার করা হয়েছে। ১৩০টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে।

১৯৭৮-এও এমন বন্যা হয়নি

শুক্রবার সকাল থেকে দ্বারকেশ্বরের চেহারা আগের দিনের চেয়েও ভয়াল হতে শুরু করে। জেলা সেচ দফতরের খবর, ৭ জায়গায় দ্বারকেশ্বরের বাঁধ ভেঙেছে। ১৯৭৮ সালেও এমন বন্যা হয়নি বলে জানাচ্ছেন মধ্যবয়স্ক বাসিন্দারা। প্রশাসনের তথ্য, দ্বারকেশ্বরের এমন বিধ্বংসী চেহারা ১৯২২ সালের পরে এই প্রথম।

বাঁধ ভেঙে আরামবাগ শহরের ১৫টি ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়। সেচ, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর-সহ বিভিন্ন সরকারি কার্যালয় ডোবে। তবে স্বস্তির খবর হল শহর এলাকা থেকে শুক্রবার বিকেল থেকেই জল নামতে শুরু করে।

যদিও শহরের বাইরে অন্যত্র অবশ্য পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। ডিভিসির জলে দামোদর এবং মুণ্ডেশ্বরী নদী ক্রমশ ফুলেছে। জেলা সেচ দফতরের এগজ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার তপন পাল জানান, বিকেলেই দু’টি নদনদী চরম বিপদসীমার চেয়ে ১.২ মিটার বেশি উচ্চতায় বইছে।

দামোদরের জলের ভেসে গিয়েছে তারকেশ্বর, ধনেখালি, জাঙ্গিপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকাও ডুবিয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ জলবন্দি। জাঙ্গিপাড়ায় প্রায় এক হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায়। ফলে, চাষে ভালোই ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। জাঙ্গিপাড়া-উদয়নারায়ণপুর রাস্তার উপর দিয়ে জল বইছে।

আশার কথা হল আপাতত আর দুর্যোগপূর্ণ কোনো আবহাওয়ার আশংকা নেই। তা সত্ত্বেও পরিস্থিতির কবে উন্নতি হবে, সেই নিয়েই চিন্তায় স্থানীয়রা।

আরও পড়তে পারেন

পশ্চিমবঙ্গে বন্যা কবলিত ২২ লক্ষ, বেশ কিছু জায়গায় নেমেছে সেনা

বিজেপির বৈঠকে নেই হিরণ-সহ ছয়, বিধায়ক সংখ্যা আরও কমার আশংকা গেরুয়া শিবিরে

দুর্গাপুজো, কালীপুজোয় কোনো দর্শনার্থী মণ্ডপে প্রবেশ করতে পারবেন না, জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট

ফের করোনা বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়াল রাজ্য, পুজোর সময় কিছুটা ছাড়

টানা বৃষ্টিতে ৩০০ বছরের প্রাচীন জমিদার বাড়ি ভেঙে পড়ল জয়নগরে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন