তিতাস পাল, জলপাইগুড়ি:”আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র দায়ী শাশুড়ি, জা(নবনীতা), ভাশুর(গণেশ)। এদের তিনজনের জন্য আমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলাম। আমি চাই এদের তিনজনের শাস্তি হোক”। ঘরের একদিকের দেওয়াল জুড়ে বড়ো বড়ো কালো অক্ষরে লেখা অব্যক্ত যন্ত্রণার কথা আর সিলিং-এর সঙ্গে গৃহবধূর ফাঁস লাগানো দেহ। শুক্রবার ভরদুপুরে এই ঘটনায় ব্যাপক  চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়িতে।

আড়াই বছর আগে শহরের গোমস্তা পাড়ার অমিত দাসের সঙ্গে বিয়ে হয় গীতার।পেশায় টোটা চালক অমিতের বাবা-মা গোমস্তা পাড়ার ওই বাড়িতেই থাকেন।কিছুটা দূরে ভাড়াবাড়িতে আলাদা থাকেন অমিতের দাদা গণেশ এবং বউদি নবনীতা।

শুক্রবার সকাল দশটা নাগাদ অমিত বাড়ি থেকে কাজে বের  হন।বেলা দেড়টা নাগাদ খেতে এসে দেখেন বাবা-মা নেই বাড়িতে।শোবার ঘরের দরজা বন্ধ।ধাক্কা দিয়ে শোবার ঘরের দরজা খুলতেই চমকে ওঠেন তিনি।চোখের সামনে সিলিং এর সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো স্ত্রী গীতার দেহ।অমিতের চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা।

গীতাদেবীর সুইসাইড নোট

রান্নাঘর থেকে ছুড়ি নিয়ে এসে ওড়না কেটে স্ত্রীর দেহ নামিয়ে নিয়ে আসেন তিনি।যদিও ততক্ষণে সব শেষ।খবর পেয়ে আসে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।যেহেতু বিয়ের আড়াই বছরের মাথায় মৃত্যু তাই নিয়ম অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ইনকোয়েস্ট রিপোর্ট তৈরি করে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।শনিবার দেহ ময়নাতদন্ত হবে।

এদিকে এই ঘটনায় উঠেছে বেশ কিছু প্রশ্ন।মৃতা গৃহবধূর স্বামী অমিত দাস জানিয়েছেন, স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাংসারিক কলহ হলেও দাদা-বৌদি এবং মা’য়ের সাথে স্ত্রীর কোন অশান্তি ছিল কি না তা তিনি জানেন না।মা তাঁর সঙ্গে থাকলেও দাদা-বৌদি দীর্ঘদিন ধরেই অন্যত্র ভাড়া থাকেন।যদিও গীতার লেখা সুইসাইড নোটে জা নবনীতা এবং ভাশুর গণেশের নাম স্পষ্টভাবেই লেখা রয়েছে।প্রশ্ন উঠেছে গৃহবধূর শ্বশুর এবং শাশুড়ির ভূমিকা নিয়েও।যে সময় ওই গৃহবধূ আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পুলিশ অনুমান করছে,সেই সময় তাদের ওই বাড়িতেই থাকার কথা।যদিও অমিতের দাবি তিনি ফিরে এসে কাউকে দেখতে পাননি।প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন ঘটনার পর কিছুক্ষণ শ্বশুর,শাশুড়ি, জা এবং ভাসুরকে ঘটনাস্থলে দেখা গিয়েছিল।যদিও পুলিশ আসার পর থেকে আর তাদের খোঁজ মেলেনি।

গৃহবধূর মা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন।বাবা গণেশ দাস জানিয়েছেন,চলে যাওয়ার আগে মেয়ে যেভাবে দেওয়ালে তার ওপর অন্যায়ের কথা পরিষ্কার ভাবে লিখে রেখে গিয়েছে তাতে অভিযুক্তদের শাস্তি না হলে তারা শান্তি পাবেন না।গৃহবধূর জামাইবাবু অজয় রায়ের বক্তব্য, মৃত্যুর আগে যেভাবে অভিযুক্তদের নাম দেওয়ালে লিখে রেখে গিয়েছে,তাতেই পরিস্কার নিয়মিত অত্যাচারের শিকার হতেন তার শ্যালিকা। ঘটনার তদন্ত চাইছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।হাশিখুশি ওই গৃহবধূর এইভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না কেউ।এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, এদিন সকালেও স্বামী কাজে বের হওয়ার সময় গীতাকে তার সাথে হাসিখুশি অবস্থায় দেখা গিয়েছিল।তার কয়েক ঘন্টার মধ্যে দেওয়ালে কালো আচড়ে অব্যক্ত যন্ত্রণার ছাপ আর ঝুলন্ত দেহের দৃশ্য ভুলতে পারছেন না কেউ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here