cpim congress

কলকাতা: পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে বারবার উঠে এসেছে শাসক দলের সন্ত্রাসের কথা। কিন্তু তা মেনে নিলেও বিজেপি কী ভাবে এত বেশি সংখ্যক মনোনয়ন জমা করতে সক্ষম হল। অথচ তথাকথিত সাংগঠনিক শক্তি নিয়েও ‘তলানিতে’ পড়ে রইল সিপিএমের মনোনয়ন সংখ্যা! রাজ্য সিপিএমের একাংশ এখন এমন প্রশ্নেই সরব।

দ্বিতায় দফায় ভোট বিজ্ঞপ্তি জারি এবং মনোনয়ন পেশের অতিরিক্ত দিন বরাদ্দের পর কমিশনের স্ক্রুটিনি থেকে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ৮২৫টি জেলা পরিষদ আসনে বিজেপির মনোনয়ন জমা পড়েছে ৭৮২টি। এবং বামফ্রন্টের মনোনয়ন সংখ্যা ৫৩৭টি। আবার ৯২১৭টি পঞ্চায়েত সমিতি আসনে বিজেপির মনোনয়ন জমা রয়েছে ৬,১৪৯টি। সেই জায়গায় বামফ্রন্ট জমা করতে পেরেছে ৪৪০০টি মনোনয়ন। অন্য দিকে ৪৮৬৫০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ২৭,৯৩৫টি মনোনয়ন জমা পড়েছে বিজেপির তরফে। বামফ্রন্ট সেখানে মনোনয়ন জমা করেছে ১৭৩১৯টি।

অর্থাৎ এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট বামফ্রন্টের মনোনয়ন-দুর্বলতা। বিজেপির থেকে নির্বাচনের তিনটি স্তরেই অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে তারা। যেখানে সিপিএমের তরফেই দাবি করা হয়ে থাকে, এ রাজ্যে বিজেপির প্রভাব থাকলেও সে অর্থে সংগঠন বেশ পিছিয়ে। তা হলে এই চিত্র থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে সিপিএমের সাংগঠনিক শক্তি কোথায় গিয়ে ঠেকেছে।

এ ব্যাপারে দলের এক প্রবীণ নেতা সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের কাছে স্বীকার করেছেন, তৃণমূলের বাধা তো আছেই কিন্তু রাজ্যে এখন এমন জায়গার সংখ্যা অনেকটাই বেশি যেখানে প্রার্থী খুঁজে পাওয়া দু:সাধ্য হয়ে উঠেছে।

তবে এ ব্যাপারে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা হল কংগ্রেস-নির্ভরতা। ভোট ঘোষণার আগে থেকেই সিপিএমের একটি অংশের উচ্চ নেতৃত্ব পরিস্থিতি অনুমান করে বলতে শুরু করেন, গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ জোটকে নিয়ে যৌথ ভাবে লড়াই করা হবে। সে ক্ষেত্রে যে যেখানে শক্তিশালী, বিজেপি-তৃণমূল বাদে তেমন রাজনৈতিক দলকেই সেখানে সমর্থন করা হবে। এই মানসিকতা প্রথম থেকেই চারিয়ে যাওয়ায় দলের একটা অংশের কর্মী-সমর্থক লড়াই থেকে দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করেন। যে কারণে, “ওখানে কংগ্রেস আছে, সিপিএম প্রার্থী না দিলেও চলবে”-এমন মানসিকতা থেকে দলীয় প্রার্থী খোঁজার চেষ্টাই করা হয়নি।

তবে ওই সিপিএম নেতা বলেন, “এটাই সব নয়। মানুষের থেকে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে অনেক দিন আগেই। সেটাই বুঝতে বড্ড দেরি হয়ে গেছে”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here