মুনমুনকে কেন অবাক করেছিলেন মমতা! প্রকাশ্যে আসছে ক্রমশ

0
Mamata banerjee and Moon Moon sen
ফাইল ছবি

ওয়েবডেস্ক: গত ২০১৪ সালের ভোটে জেতা বাঁকুড়া থেকে তাঁর আসানসোলে স্থানান্তরের ঘটনায় বেশ অবাকই হয়েছিলেন তৃণমূলের বিদায়ী সাংসদ তথা চলচ্চিত্রাভিনেত্রী মুনমুন সেন। বাঁকুড়ায় ন’বারের বামপন্থী সাংসদ বাসুদেব আচারিয়াকে হেলায় হারানোর পর তিনি চেয়েছিলেন ওই কেন্দ্রের কাজেই মন দিতে। কিন্তু আকস্মিক ভাবে তাঁকে আসানসোলে প্রার্থী করে দেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলের মতোই বিস্ময়াভূত হয়েছিলেন মুনমুন নিজেও।

এনডিটিভি-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মুনমুন জানিয়েছেন, “এ ব্যাপারে (স্থানান্তর) আমার কোনো ধারণা ছিল না…এটা নির্ভর করেছে আমার উপর আস্থার জন্যই…আমার নাম কোনো তালিকাতেই ছিল না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি (মমতা) আসেন এবং আসানসোলে আমার নাম ঘোষণা করেন”।

পাঁচ বছর আগে বাঁকুড়ার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মুনমুনকে নিয়ে একাংশের দলীয় কর্মীরাই বিস্তর অভিযোগ করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, সাংসদকে এলাকায় পাওয়া যায় না। তাঁর জনপ্রিয়তা নিয়ে কোনো সংশয় না-থাকলেও এলাকায় অনুপস্থিতিই সাধারণের কাছে সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।

আসানসোলে প্রার্থী হওয়ার পর মুনমুন তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে উল্লেখ করেছেন বিদায়ী বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে। যিনি নিজেও চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মানুষ। সেখান থেকেই রাজনৈতিক মহলের অনুমান, তারকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে তারকা প্রার্থী দিয়েই জয় হাসিল করার পরিকল্পনা নিতে পারে তৃণমূল। গত ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে বাবুলের বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী করেছিল ট্রেড ইউনিয়ন নেত্রী দোলা সেনকে। কিন্তু সে বার তিনি বিজেপির কাছে ৭০ হাজারের বেশি ভোটে হেরে যান। শুধু তাই নয়, রাজ্যের বাম জমানার শেষ (২০০৯ সাল) লোকসভা নির্বাচনের থেকে প্রায় ১০ শতাংশ ভোট কমে যায় তৃণমূলের।

সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এমন একটি কেন্দ্রে মুনমুনকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে চলেছে দীর্ঘ কাটাছেঁড়া। কিন্তু ভোটগ্রহণের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন স্পষ্ট হচ্ছে আসানসোলে মুনমুনকে প্রার্থী করার অন্যতম কারণ। আগামী ২৯ এপ্রিল চতুর্থ দফায় ভোটগ্রহণ আসানসোলে। এরই মধ্যে প্রচারের ভারে বাবুলকে সমানে টক্কর দিচ্ছেন মুনমুন। এক দিকে মমতার ইমেজ অন্য দিকে গত পাঁচ বছরে বাবুলের দেওয়া একাধিক ‘ব্যর্থ প্রতিশ্রুতি’র নমুনাকে তুলে ধরেই আসানসোলের মানুষের মনে জাঁকিয়ে বসেছেন মুনমুন।

[ আরও পড়ুন: ভোটের আগে নতুন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন আসানসোলের সাংসদ ]

তিনি নিজেও বলছেন, “আমি মনে করি তাঁর (বাবুলের) দলই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু আমি বাঁকুড়ায় ন’বারের সাংসদকেও পরাজিত করেছি। ফলে আমার বিপরীতে কোনো গায়ক থাকল না কি অন্য কেউ- সেটা আমাকে মোটেই ভাবাচ্ছে না”।

এখন দেখার ২৯ এপ্রিল ‘স্টার ওয়ার্স’-এর পর আগামী ২৩ মে ইভিএমের যোগ-বিয়োগে শেষ হাসি ফোটে কার ঠোঁটে?

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here