Covid Crisis: করোনা পরিস্থিতিতে আর্তের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়ল বেলুড় মঠ

0
আর্তদের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি তুলে দিচ্ছেন মঠের মহারাজরা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

করোনার ভয়ংকর দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের প্রত্যেককেই চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের পথ খুঁজছেন সকলেই। সকলের মুখে মুখে আজ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের সেই অমৃতবাণী ঘুরে বেড়াচ্ছে – ‘জীবসেবাই শিবসেবা’।

Loading videos...

অবতারপুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের আদর্শে এবং স্বামী বিবেকানন্দের ইচ্ছায় তৈরি বেলুড় মঠ বরাবরই এগিয়ে এসেছে মানুষের সেবাকাজে। এ বারও এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষের দিকে। তাদের এই মানবিক ভূমিকা সত্যিই প্রমাণ করে যে ‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’।

করোনায় যাঁদের আর্থিক অবস্থা বিপর্যস্ত, সংসারের সামান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসটুকুও কিনতে যাঁরা আজ দিশাহারা, তাঁদের পাশে দাঁড়াল বেলুড় মঠ কর্তৃপক্ষ। হাওড়ার বালি, লিলুয়া এবং মঠের আশেপাশে থাকা বহু মানুষের বাড়িতে তারা পৌঁছে দিচ্ছে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় জিনিস। আজ চার দিন হল তারা এই সেবাকাজ শুরু করেছে।

মঠের এখান থেকেই বিলি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।

এ ব্যাপারে কথা হচ্ছিল শ্রীরামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের এক প্রতিনিধি-মহারাজের সঙ্গে। তিনি জানালেন, প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন প্রতি দিন ১০০টি পরিবারের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পৌঁছে দেবেন। পরিস্থিতি যা তাতে সাহায্যপ্রাপ্ত পরিবারের সংখ্যা বাড়াতে হল। বর্তমানে প্রতি দিন তাঁরা ১৬৫টি পরিবারকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস দিচ্ছেন। তবে তাঁদের ইচ্ছা প্রতি দিন ১০০০ পরিবারকে তাঁরা এমনই সাহায্য করবেন।

মহারাজের কাছে জানা গেল, তাঁরা প্রতিটি পরিবারকে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি মুসুরডাল, ৫ কেজি আলু, ২ কেজি পেঁয়াজ, ৫ কেজি আটা, রান্নার সাদাতেল ১ লিটার, চার রকমের মশলা (হলুদ, লঙ্কা, ধনে এবং গোটা জিরে) ৫০ গ্রাম করে, ৫টি করে মাস্ক, ২টি সাবান, ১ কিলো সোয়াবিন, কাপড় কাচার সাবান ১ প্যাকেট – সব মিলিয়ে মোট ১৬টি পদ প্রদান করা হচ্ছে।

কী ভাবে এমন পরিবারের খোঁজ পাচ্ছেন জানতে চাওয়া হলে বেলুড় মঠের ওই মহারাজ বলেন, তাঁদের মঠের কিছু স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন যাঁরা ওই অঞ্চলেই থাকেন। তাঁদের সাহায্য নিয়েই মঠের মহারাজরা আর্ত মানুষদের চিহ্নিত করে তাঁদের হাতে তুলে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় সামগ্রী। তিনি আরও বলেন, একটা পরিবারে চার জন সদস্য ধরে নিয়ে তাঁদের এক সপ্তাহে যতটা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য লাগে, সেই হিসাবে এই সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। 

এ ছাড়াও জি টি রোডে বেলুড় মঠের শাখা কেন্দ্র সারদাপীঠের যে পলিটেকনিক ক্যাম্পাস রয়েছে, সেখানে একটি সেফ হোম তৈরি করা হচ্ছে বলে জানালেন ওই মহারাজ। ওই সেফ হোম তৈরি হচ্ছে ৬০টি বেড নিয়ে। সেই সঙ্গে থাকছে অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর-সহ উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা।

যে সমস্ত রোগী কোভিডেড় প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছেন এবং যাঁদের হোম আইসোলেশনে থাকা সম্ভব নয় তাঁরাই আসতে পারবেন এই সেফ হোমে। এই সেফ হোমে থাকাকালীন কোনো রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তখন তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হতে হবে বলেই জানালেন শ্রীরামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিনিধি। এই সেফ হোম ১ জুন থেকে শুরু করা যাবে বলেই মনে করছে বেলুড়মঠ কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: Covid Crisis: নৈহাটির বড়োমায়ের মন্দির থেকে চলছে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.