Lugu buru and Hul diwas
Samir mahat
সমীর মাহাত

একই দিনে নির্ধারিত হয়েছে আদিজনজাতিদের ঐতিহ্যবাহী পাহাড়পুজো ও ঐতিহাসিক হুল দিবসের নির্ঘণ্ট। দোটানায় পড়ে জঙ্গলমহল। একাংশের মতে, হুল দিবস পালন থাকায় এ বারে অনেকেই পাহাড়পুজোয় শামিল হতে পারেননি।

বহু প্রাচীনকাল থেকে জঙ্গলমহলের আদিজনজাতিরা পাহাড়পুজোয় (সাঁওতালিতে বুরুবঁগা) শামিল হন। প্রতি বছর বাংলা আষাঢ় মাসের তৃতীয় শনিবার হল এই পুজো হয়। এ বারে এই একই দিনে চলছে ঐতিহাসিক হুল দিবস উদযাপন। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন পাহাড়ে এ দিন পুজো হলেও উল্লেখযোগ্য হল চাকুলিয়ার কানাইশোল পাহাড়পুজো। এ রাজ্যের ঝাড়গ্রামের শিলদা থেকে এই পাহাড়ের দূরত্ব ৯ কিমি। চাকুলিয়া রেল স্টেশনে নেমে সহজেই পাহাড়ে যাওয়া যায়। দুই রাজ্যের যোগাযোগ মাধ্যম ভালো থাকায় এই পাহাড়পুজোয় প্রচুর জনসমাগম হয়। এ বারেও ভিড় ছিল মারাত্মক। আদিজনজাতিদের সাঁওতাল, কুড়মি, ভুমিজ, মুণ্ডা-সহ প্রায় সবাই এই পুজায় শামিল হন। পুজো উপলক্ষে বড়োসড়ো মেলা বসে এখানে। আদিজনজাতিদের নাচ-গান চলে সারা দিন। আদিজনজাতিরা অধিকাংশই প্রকৃতির পুজারি। এর মধ্যে গাছ বৃক্ষ, পাহাড়, মাটিও রয়েছে। এই পাহাড়পুজো তার মধ্যে অন্যতম। এ বারে এ সবে বাধ সাধে হুল দিবস। কারণ এই দিবসের এ বার  নির্ঘণ্ট একই দিনে পড়েছে। যে কারণে অনেকেই দোটানাই পড়েন।

রাজ্য সরকারের পক্ষে এ দিন আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগ থেকে বিভিন্ন জেলায় হুল দিবস উদযাপন করা হয়। ঝাড়গ্রাম জেলার কেচন্দা স্কুল ময়দানে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বিধায়ক সুকুমার হাঁসদা, সাঁকরাইল (ঝাড়গ্রাম)-এ উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মন্ত্রী সৌমেনকুমার মহাপাত্র ও সভাপতি সময় মান্ডি। সরকারের সূচি তালিকায় স্থান নেই গোপীবল্লভপুর বিধায়ক চূড়ামণি মাহাত ও শালবনির বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতর নাম।

পাশাপাশি এ দিন, বিজেপির পক্ষ থেকেও ঝাড়গ্রামে হুল দিবস পালন করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আদিবাসীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, “৩০ জুন ঐতিহাসিক হুল মাহা অর্থাৎ হুল দিবস পালন শুধু আদিবাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ কেন? ইংরেজরা তো দেশের শত্রু ছিল, সবার শত্রু । তাদের সঙ্গে লড়াই করে হাজার হাজার সাঁওতাল আত্ম বলিদান দিয়েছেন। ভারতবর্ষ যদি সাম্যের দেশ হয়, তবে অ-আদিবাসীদের মধ্যে কেন হুল দিবস পালন হয় না”!

observance of hul divas in bankura
আদিবাসী রীতিতে হুল দিবস পালন বাঁকুড়ায়।

বাঁকুড়ায় হুল দিবস উদযাপন

বাঁকুড়া থেকে নিজস্ব প্রতিনিধি জানাচ্ছেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ দিন হুল দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি হয় বাঁকুড়া শহরের জেলা স্কুলে। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক ড. উমাশঙ্কর এস, রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী, বিধায়ক অরূপ খাঁ, বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডি প্রমুখ। শহিদ সিধু-কানুর মূর্তিতে মালা দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে এ দিন আদিবাসী সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংবর্ধিত করা হয়। বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন হেবির মোড়ে নিদর্শন সাহিত্য পত্রিকা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও হুল দিবস পালন করা হয়। অন্য দিকে, বিষ্ণুপুরের মড়ার গ্রাম পঞ্চায়েত অঞ্চলের একটি আদিবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে আদিবাসী রীতিনীতি মেনেই পালিত হয় হুল দিবস। এ ছাড়াও বিষ্ণুপুরের বাবলাবনী মিলন ঝর্ণা দুলৌড় গাওতার উদ্যোগে ঐতিহাসিক হুল দিবস উপলক্ষে রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হয়। এ দিন ৭জন মহিলা সহ ৩০ জন রক্তদান করেছন। এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংগঠন যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে হুল দিবস পালন করেন ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here