husband-sold-wife-kidney-for-dowry

ওয়েবডেস্ক: আইনে যা-ই লিপিবদ্ধ থাকুক না কেন, যৌতুকের পরেও অতিরিক্ত টাকা দিতে না পারায় নিয়তি বড়ো নির্মম কৌতুকের মুখে দাঁড় করাল মুর্শিদাবাদের লালগোলার ক‌ৃষ্ণপুরের রীতা সরকারকে। জানা গেল, সেই টাকা আদায়ের জন্য গৃহবধূর কিডনি বিক্রি করে দিয়েছেন খোদ তাঁর স্বামীই! তা-ও আবার স্ত্রীর অচেতনতার সুযোগ নিয়ে। ঘটনাটি জানতে পেরে আদতে ফরাক্কার বাসিন্দা রীতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্বামী বিশ্বজিৎ সরকারের নামে। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে স্বামী ও দেওরকে। কিডনি বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন রীতা সরকারের জা-ও।

ফরাক্কা পুলিশের আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, “প্রাথমিক তদন্তে এটাই উঠে এসেছে যে বিশ্বজিৎ চিকিৎসকদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে রীতার একটি কিডনি বিক্রি করে দেন। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার হয়েছিল। আমরা সেই হাসপাতালটি সম্পর্কে তদন্তে নেমেছি। পাশাপাশি, বিশ্বজিৎ সরকারের সম্পর্কেও তদন্ত চলছে।”

জানা গিয়েছে, ফরাক্কার বিন্দুগ্রামের মহাদেব হালদারের মেয়ে রীতার সঙ্গে যখন বিশ্বজিৎ সরকারের বিয়ে হয়, তখনই নগদ টাকা, সোনার গয়না, আসবাব-সহ অনেক কিছুই আদায় করা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বজিৎ এবং তাঁর পরিবার এতে সন্তুষ্ট হয়নি। অতিরিক্ত ২ লক্ষ টাকা বিয়ের পরে দাবি করা হয়েছিল রীতা এবং তার পরিবারের কাছে।

“ওরা বিয়ের পর থেকেই আমায় অকথ্য অত্যাচার করত। রোজ মারত, মাঝে মধ্যেই খেতে দিত না। তার সঙ্গে চলত বাপের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য জোরজবরদস্তি। এ ভাবেই চলছিল। বছর দুয়েক আগে এক বার আমার পেটে খুব ব্যথা হয়। তখন আমার শাশুড়ি আর স্বামী আমায় কলকাতার একটা হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেয়। সেখানে আমায় একটা ওষুধ খেতে দেয়। তার পর আর আমার কিছু মনে ছিল না। জ্ঞান হওয়ার পর দেখি বাড়িতেই আছি আর আমার পেট কাটা, সেখানে ব্যান্ডেজ বাঁধা। তার পর একদিন বাপের বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়ায় মালদহ মেডিক্যাল কলেজে আলট্রাসোনোগ্রাফি করাই। তখনই জানতে পারি যে আমার ডান দিকের কিডনি নেই”, কান্নায় ভেঙে পড়ে এ কথা জানিয়েছেন রীতা সরকার।

যদিও রীতার স্বামী বিশ্বজিৎ এ কথা স্বীকার করতে নারাজ। তিনি উলটে এ সব রীতার বাবা মহাদেব হালদারের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছেন। “শ্বশুর এ সব কথা সাজিয়ে আমার সব সম্পত্তি দখল করে নিতে চাইছে। আমরা কেন এ রকম করে রীতার কিডনি বিক্রি করব? রীতা স্বেচ্ছায় নিজের একটা কিডনি দান করেছে”, বক্তব্য বিশ্বজিতের।

পাশাপাশি বিশ্বজিতের মা আরেক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন রীতার বিরুদ্ধে। “বউমার স্বভাব মোটেও ভালো নয়। পাড়ায় এমন ছেলে নেই যার সঙ্গে ওর ভাব ছিল না! তাদের সঙ্গে হাসত, ঘুরত, ডেকে ডেকে মুখে সন্দেশ তুলে দিত। এই নিয়ে কিছু বলতে গেলেই অশান্তি! চিৎকার করত, বেশ কয়েক বার গলায় দড়িও দিতে গিয়েছিল। তাই আমি আর ছেলের কাছে থাকতাম না”, জানিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here