Bharati-Ghosh-IPS
কলকাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের বাড়ি-ফ্ল্যাটে এখনও পর্যন্ত সব মিলিয়ে ১২টি তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে প্রকাশ্যে তাঁকে এখনও দেখা যায়নি। নিজস্ব কাজে ভিন রাজ্যে রয়েছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যম মারফত জানানোর পাশাপাশি তিনি সিআইডির উদ্দেশে বেশ কিছু প্রশ্নও ছুড়ে দিয়েছেন অডিওবার্তায়। তবে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু মাধ্যমকে ব্যবহার করে তাঁর প্রেরিত ওই অডিওকে আপাতত কোনো গুরুত্বই দিতে চাইছে না সিআইডি।
এক গোয়েন্দা আধিকারিক বলেন, হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো কোনো অডিওকে গুরুত্ব দেওয়া হবে তখনই যখন তাতে কোনো আইনি শিলমোহর থাকবে। এর আগেও দেখা গিয়েছে এক সাংসদ জেলে যাওয়ার পর বাংলার একটি প্রথম শ্রেণির দৈনিক সংবাদপত্রে তাঁর নিজস্ব কলম লিখতেন। তার জেরে তদন্ত বা মামলার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়েনি। আইন বুঝেও ভারতীদেবী যে ধরনের পদক্ষেপ করছেন, তা দেখেশুনে খুবই খারাপ লাগে।
গত বৃহস্পতিবার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ওই অডিওবার্তা সোশ্যাল মিডিয়ার যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়ায়। ওই অডিওবার্তায় তিনি হয়তো রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নতুন কোনো বিস্ফোরক তথ্য শোনাবেন, এমনটাই আশা ছিল সোশ্যাল মিডিয়ার।ওই আধিকারিক বলেন, ১২ মিনিটের ওই অডিওতে নিছক আত্মপক্ষ সমর্থনের মাধ্যমে সহানুভূতি আদায় করা ছাড়া আর অন্য কিছুই মেলেনি সেখান থেকে। ভারতীদেবী ওই অডিওতে যে ১০টি প্রশ্ন তুলেছেন সেগুলিকে আইনি ভিতের উপর দাঁড় করানোর মরিয়া চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি তো এ বিষয়েও যথেষ্ট সচেতন যে এ ভাবে অডিওবার্তায় আইনি লড়াই নিরর্থক।
পশ্চিম মেদিনীপুরের এক বর্ষীয়ান সাংবাদিক বলেন, ভারতীদেবীর নেতৃত্বে জঙ্গল মহলের মাওবাদী আন্দোলন দমনে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল রাজ্য সরকার। সে সময় শীর্ষ মাও নেতারা যে ধরনের পন্থা অবলম্বন করে সংবাদ মাধ্যমের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতেন, এখন দেখা যাচ্ছে প্রাক্তন পুলিশ সুপারও তেমনই পথ ধরছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here