recovered tortoises

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: নিষিদ্ধ। তাই দিনের আলোয় নয়। রাতে অন্ধকারে চলত জমজমাট ব্যবসা। গোটা নিলে ১০০০ টাকা কেজি। আর কেটে নিলে ১৪০০ টাকা কেজি। তবে এ বার সেখানে বাধ সাধল বন দফতর। বন্ধ হল কচ্ছপ বিক্রির বাজার। উদ্ধার হয়েছে একুশ কেজি ওজনের একটি দুর্লভ প্রজাতির কচ্ছপ। সঙ্গে আরও তিনটি ছোটো কচ্ছপও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে একজন।

weighing tortoises
এই ভাবে ওজন করা হত কচ্ছপ।

বৈকুন্ঠপুর বন বিভাগের বেলাকোবা রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্তের কাছে সূত্র মারফত খবর আসে এই কচ্ছপ-বাজারের।

শুক্রবার রাতে শিলিগুড়ি সংলগ্ন জলপাইগুড়ির সাহুডাঙ্গি বাজারে ক্রেতার ছদ্মবেশে যান সঞ্জয় দত্ত। অন্য বনকর্মীরা আড়ালে ওঁত পেতে ছিলেন। ক্রেতাদের ভিড়ে মিশে সঞ্জয় দত্ত বিষ্ণু দাস নামে এক জনের কাছে গিয়ে দরদাম শুরু করেন বড়ো কচ্ছপের।

শাঁসালো খদ্দের ভেবে সব চেয়ে বড়ো কচ্ছপটিই তাঁকে দেখান ওই কচ্ছপ-ব্যাপারী। দাম চান কুড়ি হাজার টাকা। ততক্ষণে তাঁকে চার পাশ থেকে ঘিরে ফেলেছেন আড়ালে থাকা বনকর্মীরা। বিপদ বুঝে বাকি খদ্দেররা পগার পার। ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে পাওয়া যায় আরও তিনটি কচ্ছপ। সেগুলো ওজনে প্রতিটি তিন কেজির কাছাকাছি।

vishnu das
ধৃত বিষ্ণু দাস।

ধৃতকে বেলাকোবা রেঞ্জ অফিসে নিয়ে এসে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জানা যায়, বিহার থেকে মাছের গাড়িতে লুকিয়ে নিয়ে আসা হত এই কচ্ছপ। শিলিগুড়ির বেশ বড়ো কয়েক জন মাছের আড়তদার এগুলো কিনে নিতেন। তার পর তাঁরা সেগুলো বিক্রির জন্য শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, ডুয়ার্স-সহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠিয়ে দিতেন। ৫৪০ টাকা কেজি পাইকারি হিসেবে বিক্রি হত।

রাতের অন্ধকারে কিছু বিশেষ জায়গায় এগুলো কিনতে আসতেন ক্রেতারা। সেখানে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হত গোটা কচ্ছপ বা কচ্ছপের মাংস। যে হেতু নিষিদ্ধ, সে হেতু বিক্রি করার ব্যাপারেও সাবধানতা নেওয়া হত। যাঁরা নিয়মিত ক্রেতা তাঁদের কাছে ফোনে খবর চলে যেত। আর উটকো খদ্দের এলে, ভালো ভাবে যাচিয়ে নিয়ে তবেই জিনিস সামনে বার করা হত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত  লুঙ্গি-জামা পরা ছদ্মবেশী সঞ্জয় দত্তের কাছে ধোকা খেয়ে গেল এই কচ্ছপ-ব্যাপারী।

বিষ্ণু দাসকে জেরা করে মানিক সাহা নামে শিলিগুড়ির এক আড়তদারের খোঁজ পেয়েছে বন দফতর। তাঁর খোঁজ শুরু হয়েছে। এ দিকে ধৃতকে শনিবার জলপাইগুড়ির মুখ্য বিচারবিভাগীয় বিচারকের আদালতে তোলা হয়। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। আদালতের সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে তাঁকে ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক।

রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, এই বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীটিকে রক্ষা করতে অভিযুক্ত আড়তদারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কচ্ছপগুলিকে তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে বন দফতর সূত্রে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here