arrested bangladeshi youth

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: ‘রং নম্বর’-এর প্রেমই ধরিয়ে দিল অনুপ্রবেশকারী ভিনদেশী যুবককে। প্রেমিকার বাড়ি থেকে আপাতত তার ঠাঁই থানার লক-আপ।

জলপাইগুড়ির পাতকাটা অঞ্চলের দোডালিয়া পাড়ায় দরিদ্র কৃষক দম্পতির মেয়ে সংগীতা। বছর দেড়েক আগে এমএ পাঠরতা সংগীতার (নাম পরিবর্তিত) মোবাইলে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। যদিও আদতে সেটি ‘রং নম্বর’ ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই রং নম্বরটাই ‘রাইট’ হয়ে ওঠে সংগীতার কাছে। অন্তর সিংহ নামে ভুল নম্বরে ফোন করা যুবকটির সঙ্গে ফোনে ফোনেই প্রেমে জড়িয়ে যান তরুণী। দু’জনে বেশ কয়েক বার দেখাও করেন। সংগীতা জানতে পারেন, অন্তরের বাড়ি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বালিয়া বড়োবাড়ি গ্রামে। সৎমার অত্যাচারে থাকতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল। তার পর ভারতে চলে আসে। এখানে কোনো সময় মুর্শিদাবাদ, কোনো সময় বর্ধমানে রাজমিস্ত্রির কাজ করত সে। এর বেশি কিছু সে বলতে চায়নি সংগীতাকে। প্রেমিকের ওপর বিশ্বাস রেখে সংগীতাও আর কিছু জানতে চাননি।

গত শনিবার সংগীতার ডাকে জলপাইগুড়ি আসে অন্তর। তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান সংগীতা। বাড়িতে সব কথা জানান। ছেলেটিকে পছন্দ হয়ে যায় সংগীতার মা, বাবারও। তারা মেয়ের সঙ্গে অন্তরের বিয়েও দিতে রাজি হয়ে যান। সেই বাড়িতেই থাকতে শুরু করে অন্তর। কিন্তু তার চালচলনে পাড়া-প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য শাকালু দাস মারফত খবর যায় জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায়।

sangeeta crying
কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সংগীতা।

মঙ্গলবার পুলিশ যায় সংগীতাদের বাড়িতে। জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্তরের কাছ থেকে সে ভাবে সদুত্তর না পাওয়ায় তাকে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার। উঠে আসে আসল সত্য। অন্তর স্বীকার করে নেয়, সে হিলি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। মাত্র ৩০০০ টাকার বিনিময়ে দালালের সাহায্য এ-পারে চলে আসে। এ-দেশে থাকার কোনো বৈধ নথিও তার কাছে নেই।

এ সব স্বীকার করলেও এখনও তাকে নিয়ে ধোঁয়াশায় পুলিশ। কারণ প্রায় দু’ বছর সে কোনো নথি ছাড়াই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কী ভাবে ঘাঁটি গেড়ে থাকল, কেন সে এত দিন পুলিশের হাতে ধরা পড়ল না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কে বা কারা তাকে কী উদ্দেশ্যে কাজ এবং আশ্রয় দিয়েছিল তা-ও পরিষ্কার নয়।

সে তার যে নাম বলছে এবং বাড়ির ঠিকানা দিয়েছে তা-ও কতটা সঠিক তা নিয়েও সন্দিহান পুলিশ আধিকারিকরা। সে কী উদ্দেশ্যে সংগীতার মতো একটি নিরীহ মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল তার উত্তর খুঁজতে চাইছে পুলিশ। এখনও দফায় দফায় জেরা চলছে ধৃত যুবকের। আগামী কাল তাকে জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হবে। আপাতত বেশ কিছু দিন তার হাজতবাস নিশ্চিত। আর আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার জানিয়েছেন, এর মধ্যেই ওই যুবকের সম্পর্কে খোঁজখবর করা হবে। যে হেতু ভিন দেশের ব্যাপার তাই প্রয়োজনে যোগাযোগ করা হতে পারে বাংলদেশের দূতাবাসের সঙ্গেও।

আর এ সবের মাঝে পড়ে প্রায় বাকশক্তিহীন অবস্থা সংগীতার। যাকে বিশ্বাস করে, ভালোবেসে ভবিষ্যৎ জীবনের সঙ্গী করতে চেয়েছিলেন তার এই প্রতারণা এবং এই পরিণতি মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি। থানায় এসে সব জানতে পেরে ভেঙে পড়েছিলেন মেয়েটি। এক বার কাতর চোখে পুলিশের কাছে অনুরোধও জানিয়েছিলেন সংগীতা, যদি অন্তরকে ছেড়ে দেওয়া যায়। কিন্তু আইনে তা সম্ভব নয়, মেয়েটির অবস্থা দেখে কষ্ট পেলেও জানিয়ে দিয়েছিলেন পুলিশ আধিকারিকরা। বাবা-মা প্রায় জোর করেই সংগীতাকে থানা থেকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যান। ফিরে যাওয়ার সময় চোখের জল ফেলতে ফেলতে সংগীতা বোধহয় তখন একটা কথাই ভাবছিল, ‘রং নাম্বারের”‘প্রেম তা হলে কি ‘রং’ই হয়ে গেল ?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here