বিজেপি বিধায়কের রহস্যমৃত্যুতে রাষ্ট্রপতিকে পাল্টা চিঠি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

0
ফাইল ছবি

কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে (Ramnath Kovind) চিঠিতে জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের একজন বিজেপি বিধায়কের ‘সন্দেহভাজন আত্মহত্যা’র বিষয়টিতে বিরোধী দল বিজেপি ‘রাজনৈতিক’ রং লাগাতে চাইছে।

ঘটনায় প্রকাশ, বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ রাষ্ট্রপতির হাতে ওই চিঠি তুলে দেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। এর আগের দিনই বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে ইস্যুটি তুলে ধরেন।

কী দাবি মুখ্যমন্ত্রীর?

জানা গিয়েছে, চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের (Debendra Nath Ray) মৃত্যুর ঘটনা কোনো মতেই রাজনৈতিক নয়”। এ ব্যাপারে তিনি ময়নাতদন্তের প্ৰাথমিক রিপোর্টিও তুলে ধরে লিখেছেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে তিনি আত্মহত্যাই করেছেন”। এমনকী বিজেপি বিধায়কের মৃত্যুর নেপথ্যে টাকাপয়সা লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদ ছিল বলেও মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে কৈলাস দাবি করেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন নেই”। মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে দাবি করেছেন, “আপনাকে বিকৃত তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে”। মমতা স্পষ্ট করেই লিখেছেন, “বিজেপির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আপনার বৈঠকের প্রসঙ্গে বলতে চাই, তিনি (কৈলাস) আপনাকে কিছু বিকৃত তথ্য পরিবেশন করেছেন”।

দাবি এবং আশ্বাস

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, “রাজ্য সরকার সমস্ত দলের বিধায়কদেরই যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে থাকে। মৃত বিধায়ক প্রথমে সিপিএমের প্রার্থী হিসাবে জিতেছিলেন। পরে তিনি বিজেপিকে সমর্থন করেন”।

মমতার দাবি, “স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন, এমন একটি মোবাইল দোকানের সামনে টিন শেড / বারান্দা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া গিয়েছে। ময়না তদন্তের পরে এবং প্রাথমিক তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানিয়েছে, এটি সন্দেহজনক আত্মহত্যার একটি ঘটনা এবং কিছু আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদ থাকতে পারে”।

চিঠিতে রাষ্ট্রপতিকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সিআইডি (CID) গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে।

বিধায়কের রহস্যমৃত্যু

গত সোমবার সকালে একটি চায়ের দোকান থেকে উদ্ধার হয় উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়কের ঝুলন্ত দেহ। রায়গঞ্জের (Raiganj) বিন্দোল পঞ্চায়েতের বালিয়া গ্রামে তাঁর আদি বাড়ি। সেখান থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে রাস্তার ধারে অবস্থিত ওই চায়ের দোকানটি। পরিবারের দাবি, খুন করা হয়েছে বিধায়ককে। ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। 

রায়গঞ্জের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী এই বিষয় বলেন, “দেবেনবাবুর মৃত্যু যথেষ্ট সন্দেহজনক। একজন মানুষ হাত বাঁধা অবস্থায় কখনোই আত্মহত্যা করতে পারেন না। সকলেই সন্দেহ করছে। পুলিশ সঠিক তদন্ত করে মৃত্যুর কারণ বের করুক।” একই দাবি বিজেপিরও। পরে এই ইস্যু নিয়ে রাষ্ট্রপতির দরবারে হাজির হন বিজেপি নেতৃত্ব।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন