নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : দিনের বেলায় যেমন-তেমন। কিন্তু আঁধার ঘনিয়ে এলেই অজানা আতঙ্ক চেপে বসছে মনের কোণে। সূর্য ডোবার পর ঘর থেকে বের হতে চাইছেন না কেউ। গত ৬দিন ধরে এই ভাবেই আতঙ্কে জলপাইগুড়ি শহরের কিং-সাহেবের ঘাট, সুভাষ উন্নয়নপল্লি, কপিল বস্তি এলাকা।
না, কোনো ‘অশরীরী’-র আতঙ্ক নয়। এক নাম না জানা ‘শরীরী’ জন্তুর আক্রমণের শিকার এই তিন এলাকার বাসিন্দা। করলা নদীর বাঁধ ঘেষে রয়েছে এই তিনটি জনবহুল বস্তি এলাকা। শনিবার প্রথম আবির্ভাব হয় প্রাণীটির। ভোর চারটে নাগাদ এক দল কুকুরের চিৎকার শুনতে পেয়ে ঘর থেকে বের হন চন্দ্রেশ্বর পাসোয়ান নামে এক প্রৌঢ়। বেরিয়ে দেখতে পান করলা নদীর ধারে এক চতুষ্পদ প্রাণীকে ঘিরে ধরেছে এক দল কুকুর। তিনি কুকুরগুলিকে তাড়াতে গেলে ওই প্রাণীটি তাঁর মাথা লক্ষ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে পালটা আঘাত করলে জন্তুটি পালিয়ে যায়। তার পর তিন দিন জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়েছিল ওই প্রৌঢ়কে। ৬ দিন পরও ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে যেন তিনি আতকে উঠছিলেন।

সেই শুরু। এর পরে রাতের অন্ধকারে সেই প্রাণীর হাতে জখম হয়েছেন মোট ১১জন। কারো মাথায়, কারোর কাঁধে, কারো বা পেটে জখমের চিহ্ন রয়েছে। আঘাত গুরুতর হওয়ায় ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তিও থাকতে হয়েছিল। কিন্তু যাঁরা ওই শ্বাপদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তাঁরা কেউই ঠিক করে জন্তুটির বিবরণ দিতে পারেননি। কারণ সব ঘটনাই ঘটেছে অন্ধকারে, অতর্কিতে।

তাই আঁধার ঘনিয়ে এলেই ঘর থেকে আর বের হতে চাইছেন না কেউ। নেহাত যাঁদের জীবিকার তাগিদে রাত করে ঘরে ফিরতে হয় তাঁরাও একলা না এসে দল বেঁধে ফিরছেন। ওই এলাকার কাছাকাছি রয়েছে একাধিক সরকারী দফতর ও বাংলো। তার মধ্যেই রয়েছে পুর্ত দফতরের বাংলো, সেখানে আগামী ২৭মার্চ জেলা সফরে এসে রাত্রিবাস করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। স্বাভাবিক ভাবেই সুরক্ষার প্রশ্নে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসনও। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি বনবিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। সঙ্গে ছিলেন পশুপ্রেমী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও। তাঁরা এলাকা ঘুরেও দেখেন। তবে প্রাণীটি কী প্রজাতির, তার কোনো নমুনা পাননি। বনকর্মীরা এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি বন্যপ্রাণ(২) বিভাগের আধিকারিক নিশা গোস্বামী। তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।


কিন্তু তাতে ভয় যাচ্ছে না সাধারণ মানুষের। হামলাকারী প্রাণীটি যে কুকুর নয় তা নিয়ে প্রায় এক মত সকলেই। জলপাইগুড়ি নেচার অ্যাণ্ড সায়েন্স ক্লাবের সম্পাদক রাজা রাউতের বক্তব্য, কুকুর কোনো সময় মাথা বা কাঁধে আক্রমণ করে না। বরং বিড়াল প্রজাতির প্রাণীরাই ওই ভাবে আক্রমণ করে থাকে। তবে ওই এলাকায় এর আগে চিতা বা বন বিড়াল বা নেকড়ে জাতীয় প্রাণী কেউ কোনো দিন দেখেননি বলেই জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে প্রাণীটির নাম যাই হোক না কেন, আপাতাত আঙ্কিত এলাকাবাসীর মুখে তার নাম ‘অজানা বিভীষিকা’।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন