mukul roy, bjp

কলকাতা: পঞ্চায়েত নির্বাচনে চোখে পড়ার মতো ফল করতে হলে যে সংখ্যালঘু ভোট কাছে টানতেই হবে, তা বেশ ভালো করেই টের পেয়ে গিয়েছে রাজ্য বিজেপি। সাম্প্রতিক দু’টি বিধানসভা এবং একটি লোকসভা ভোটের ফল থেকে শিক্ষা নিয়ে তাই সংখ্যালঘু আকর্ষণে আগাম ব্যবস্থা নিয়ে রাখছে দল। গত সোমবার কলামন্দিরে আয়োজিত একটি সেমিনারে তেমন কথাই উঠে এল রাজ্য বিজেপির উচ্চ নেতৃত্বের বক্তব্যে।

কেন্দ্র সরকার সংখ্যালঘু উন্নয়নে ঠিক কী কী প্রকল্প হাতে নিয়েছে অথবা সেই সমস্ত প্রকল্পে কী পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, সে সব তথ্যও তুলে ধরা হয় ওই সেমিনারে। উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত এবং মুকুল রায়-সহ প্রমুখ নেতৃত্ব।

বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি আলি হোসেন জানান, সংগঠনের তরফে আয়োজিত সেমিনারটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ইচিবাচক সাড়া দিয়েছেন। সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, গ্রামের মানুষের জন্য ২৪x৭ বিদ্যুৎ সরবরাহ, কম খরচে সাশ্রয়কারী এলইডি বাতি জোগান দেওয়া, পাকা বাড়ি নির্মাণ, শৌচালয় নির্মাণ, ভরতুকিযুক্ত রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়া-সহ বহুবিধ প্রকল্পকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে চলেছে কেন্দ্র।

তবে নিজের বক্তব্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির থেকে রাজ্য সরকারের সমালোচনাতেই অধিক মনোযোগ দেন মুকুলবাবু। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কেন্দ্র ‘পচুর’ পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করে চলেছে সংখ্যালঘু মানুষের উন্নয়নে। কিন্তু রাজ্য সেই টাকার যথাযথ খরচ করে উঠতে পারছে না।”

এ বিষয়ে এক তৃণমূল নেতা বলেন, কেন্দ্র সরকারি তথ্য থেকেই জানা গিয়েছে, সংখ্যালঘু উন্নয়নে শেষ বছরে সব থেকে বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে পশ্চিমবঙ্গ। ২০১৭-’১৮ অর্থবৰ্ষে গুজরাত সংখ্যালঘু উন্নয়নে রাজ্য বাজেটে মাত্র ৫১.৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। এ কথা ঠিক গুজরাতের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু মানুষের বাস তুলনামূলক ভাবে বেশি। তবুও ওই একই সময়ে বাংলায় সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে বরাদ্দ করা হয়েছিল ৩,৪৭০.৭৮ কোটি টাকা। আবার শতাংশের হারেও দেখা গিয়েছে বিস্তর ফারাক। মাল্টি সেক্টোরাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ফর মাইনরিটি বা এমএসপিএম-তে গুজরাত এবং পশ্চিমবঙ্গের বাজেট বরাদ্দের হার ছিল যথাক্রমে .০২৯ এবং ২৮.৯ শতাংশ। মুকুলবাবুও নিশ্চয় এই পরিসংখ্যানটি জানেন, সে কারণেই তিনি ‘প্রচুর’-এই কাজ সেরেছেন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন