TMC

কলকাতা: মুর্শিদাবাদের দায়িত্ব পাওয়ার পরই জেলার এত দিনের পুরনো রাজনৈতিক মানচিত্রকে পাল্টে দিয়েছেন তৃণমূলের যুবনেতা তথা রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জাতীয় কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর গড় হিসাবে পরিচিত মুর্শিদাবাদ থেকে এক জোড়া কংগ্রেস বিধায়ককে টেনে নিয়েছেন তৃণমূলে। সেই সাফল্যের রেশ ধরেই এ বার পঞ্চায়েত নির্বাচনেও কংগ্রেস এবং সিপিএমের প্রতিপত্তিতে অনেকটাই থাবা বসাতে পারে শাসক দল।

স্বাভাবিক ভাবেই এ বারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে শুধু মুর্শিদাবাদ বা দুই মেদিনীপুর নয়, সারা রাজ্য জুড়েই শুভেন্দু-অনুগামীরা তাঁকে দিয়ে জেলায় জেলায় সভা করানোর আর্জি জানিয়েছেন দলের উচ্চ নেতৃত্বের কাছে। গত ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও শুভেন্দুবাবু দক্ষিণবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলায় একাধিক জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই তাঁকে দিয়ে যত বেশি সংখ্যক সভা করানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল দল।

তবে প্রায়শই খবরে উঠে আসা দলীয় অন্তর্দন্দ্বের বিষয়টিকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট মহল। তাদের মতে, ইতি মধ্যে স্থির হয়েছে, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী লোকসভা ভোট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন কয়েকদিনের মধ্যেই। যে কারণে পঞ্চায়েতের প্রচারে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যাকেই প্রধান মুখ হিসাবে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু এই জায়গাটিতেই চরম আপত্তি রয়েছে দলেরই একাংশের। শুভেন্দু-ঘনিষ্ট তৃণমূল নেতৃত্ব সরাসরি দলনেত্রীর সামনে এ বিষয়ে মুখ খ‌ুলতে না পারলেও আড়ালে-আবডালে তা নিয়ে কানাঘুষো করছেন।

আরও পড়ুন: মমতা নন, পঞ্চায়েতে তৃণমূলের প্রচারে প্রধান মুখ হয়ে উঠতে চলেছেন এই সাংসদ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দক্ষতা নিয়ে তাঁদের মনে সামান্যটুকু দ্বিধা না থাকলেও ‘অভিজ্ঞতা’র দিক থেকে তাঁরা শুভেন্দুবাবুকেই এগিয়ে রাখছেন। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে শুরু করে পশ্চিম মেদিনীপুর এবং সাম্প্রতিক সময়ে মুর্শিদাবাদে তিনি যে ভাবে দলকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়েছেন, তাতে তাঁর দক্ষতা নিয়েও নতুন করে কিছু বলার নেও বলেই মনে করেন তাঁরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here