floating market
শ্রয়ণ সেন

সব প্রতীক্ষার অবসান। ভারতের প্রথম ভাসমান বাজার চালু হয়ে গেল পাটুলিতে। বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে রিমোট টিপে এই বাজারের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং কলকাতা পুরসভার ১১০ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপিতা অরূপ চক্রবর্তী।

পাটুলিতে ঢালাই ব্রিজের কাছে বাইপাসের ধারে একটি বাজার ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। সেই বাজারের জন্য বারবার বাধা পড়েছে বাইপাস সম্প্রসারণের কাজ। বাজারটিকে ওঠানোর চেষ্টা হলেও বিক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে সেটা আর করা যায়নি। কিন্তু বাইপাসের সম্প্রসারণের কাজও তো আর থেমে থাকতে পারে না। অগত্যা কী করা, তখনই এই ভাসমান বাজার বা ফ্লোটিং মার্কেটের তত্ত্ব মাথায় এল পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের। পাটুলির এইচ ব্লকের সামনে এই ঝিলকে কাজে লাগিয়ে এই ভাসমান বাজার তৈরি করেছে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক।

অনেকে ভাবতে পারেন কাশ্মীরের ডাল লেকে ভাসমান বাজার তো আছেই তা হলে এটিকে প্রথম বলা হচ্ছে কেন? আসলে ডাল লেকের ভাসমান বাজারের সঙ্গে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে এখানকার ভাসমান বাজারের। ডাল লেকের ভাসমান মিনা বাজারে ক্রেতাকে বোটে চেপে পৌঁছোতে হয়। তাইল্যান্ড ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মতো পাটুলিতে ক্রেতার ভরসা হবে ভাসমান প্ল্যাটফর্ম বা ওয়াকওয়ে। একটু জেনে নিন কী ভাবে তৈরি হয়েছে এই ভাসমান বাজার।

ঝিলের মাঝ বরাবর রয়েছে মূল ওয়াকওয়ে। সেখান থেকে থেকে দু’দিকে ছ’টি করে মোট বারোটি ওয়াকওয়ে গিয়েছে শাখার মতো। সেগুলির ধারেই রয়েছে নৌকা। কাঁচা আনাজ, ফলমূল, মাছ, মুদির দোকান, সবই থাকছে সেখানে। শালবল্লার খুঁটির উপরে তৈরি ওই ওয়াকওয়ে দিয়ে হেঁটে বিভিন্ন নৌকায় পৌঁছে যাবেন ক্রেতা। দু’মিটার চওড়া ওয়াকওয়েতে রেলিং রয়েছে। জলের ওঠানামা ভেবে তৈরি হয়েছে নৌকার নকশা। রয়েছে ঝরনা এবং বসার জায়গাও।

এই ভাসমান বাজারের জন্য পাটুলির ঝিলে এসেছে মোট ১১৯টা নৌকা। এই নৌকাগুলি তৈরি হয়েছে হুগলি জেলার বলাগড়ে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই নৌকায় বসতে শুরু করে দিয়েছেন বিক্রেতারা। কেউ কেউ বেশ উচ্ছ্বসিত নতুন জায়গায় বসে, অনেকেই আবার ভাবছেন নৌকার দুলুনিতে ঠিকঠাক ব্যবসা করা যাবে কি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “নতুন জায়গা পেয়ে খুব ভালো লাগছে। কিন্তু কী ভাবে বসব বুঝতে পারছি না। নৌকা দুলে উঠলে টাল সামলাতে পারব তো?” ঝিলটা নোংরা হয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও অনেকে সন্দিহান। তবে তাঁরা আশাবাদী এই ভেবে যে সরকারের তরফ থেকে জলকে পরিষ্কার রাখার জন্য বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল সেগুলি হয়তো কাজে লাগবে।

এই ভাসমান বাজার তৈরির সময়ে কম দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি ঝিলের সামনের ফ্ল্যাটগুলির বাসিন্দাদের। পাইপ ঢোকানো, রাস্তা তৈরির জন্য নভেম্বর থেকে প্রায় মাস দুয়েক রাস্তার অবস্থা বেশ খারাপ ছিল। পা পিছলে, গর্তে পড়ে অনেকে আহতও হয়েছিলেন। তবে এখন সে সব অতীত। নতুন করে রাস্তা তৈরি হয়েছে। তাই সবার আশা, কলকাতার নতুন ‘টুরিস্ট ডেস্টিনেশন’ হিসেবে উঠে আসবে পাটুলি।

দেখে নিন এই ভাসমান বাজারের কিছু ছবি:

floating market

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন