indra mitra

ওয়েবডেস্ক : চলে গেলেন প্রাবন্ধিক-হাস্যরসাত্মক গল্পকার-কবি অরবিন্দ গুহ তথা ইন্দ্রমিত্র। বয়স হয়েছিল ৯০। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ উডল্যান্ডসে ভর্তি করানো হলেও মারা যান বেলা ১১-৩০ মিনিটে। ২০১৫ সাল থেকে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন।

অরবিন্দ গুহ, ১৯৭২-এ ‘করুণাসাগর বিদ্যাসাগর’ গদ্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কার এবং ২০০৭-এ ‘দেখাসাক্ষাৎ’ নামক কাব্যগ্রন্থের জন্য আরও একবার রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন। আজ পর্যন্ত আর কেউ দু’বার- গদ্য ও পদ্যে রবীন্দ্রস্মৃতি পুরস্কারে সম্মানিত হননি।

১৯২৮ সালের ২০ ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম। কলকাতায় আসা দেশভাগের কয়েক দিন পরে। দিদি জ্যোতির্ময়ী গুহ ও অরবিন্দ গুহ মিলে বাসস্থান করে থাকতে শুরু করেন ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ থেকে বেহালার দক্ষিণ বেহালা রোডে। কৈশোর ও আইএসসি পড়া বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল ও কলেজে। কলকাতায় কলেজের পাঠ সাঙ্গ করে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে যোগ দেন।

indramitra

কবিতা দিয়ে লেখার হাতেখড়ি। অরবিন্দের ছাত্রজীবনে কলকাতার ‘শিশু সওগাত’ নামে ছোটোদের একটি মাসিকপত্রে প্রথম কবিতা ছাপা হয়। পরে কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ। ইন্দ্রমিত্র ছদ্মনামে এক দিকে লিখে গিয়েছেন সরস গল্প, উপন্যাস, অন্য দিকে রচনা করেছেন গবেষণাধর্মী দুটি অসামান্য গ্রন্থ ‘সাজঘর’ ও ‘করুণাসাগর বিদ্যাসাগর’। ‘সাজঘর’ গ্রন্থের জন্য ১৯৬২তে পেয়েছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নরসিংহদাস পুরস্কার। ‘ইতিহাসে আনন্দবাজার’, ‘দক্ষিণনায়ক’, ‘নীলিমায় নীল’, ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ আজও খ্যাতির শীর্ষে। ইন্দ্রমিত্রের গল্পের ভিত্তিতেই তপন সিংহ ১৯৬৮-তে তৈরি করেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্র ‘আপনজন’।

আপাত অনাড়ম্বর ও ধুতিপাঞ্জাবিতে আদৃত অরবিন্দ গুহ রেখে গেলেন সঙ্গীতশিল্পী পূরবী গুহ, কন্যা গৌরী, জামাতা পৌত্র ও পরিবারের প্রিয়জনদের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here