মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, ধর্মঘট হচ্ছে না, সবাই সবার মতো করে বাংলাকে সচল রেখে দিন। বামেরা বলছে, সরকার যুদ্ধ করতে চাইলে যুদ্ধ হবে। শুক্রবার দেশজোড়া শিল্প ধর্মঘটের আগে এমনই ছবি রাজ্যে।

মোদী সরকারের শ্রমিকবিরোধী নীতির প্রতিবাদে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন একযোগে শিল্প ধর্মঘট ডেকেছে শুক্রবার। ধর্মঘট সমর্থন করছে বিজেপির শ্রমিক সংগঠন বিএমএস-ও। প্রায় ১৫ কোটি শ্রমিক এই ধর্মঘটে সামিল হবেন বলে দাবি ইউনিয়ন নেতাদের। দেশের সর্বকালের সব চেয়ে বড় এমনকি আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতেও অন্যতম বৃহৎ শিল্প ধর্মঘট শুক্রবার হতে চলেছে বলেও দাবি করেছেন কেউ কেউ।

রাজ্যে এই ধর্মঘটে সামিল হতে চলেছে ১৭টি সংগঠন। আর সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের রায় উদ্‌যাপন করতে, এই দিনটিকেই সিঙ্গুর দিবস হিসেবে পালন করতে চলেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে বলেছেন, “কাল রাস্তায় গাড়ি নামান, দোকান-অফিস খোলা রাখুন, যদি কোনও ক্ষতি হয়, সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে”। আরও বলেছেন, কোনও বন্‌ধে কারও ক্ষতি হলে, যাঁরা বন্‌ধ ডেকেছেন, তাঁদের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ নেওয়া যায়।

বন্‌ধ ব্যর্থ করতে, প্রশাসনিক ব্যবস্থাও থাকছে বাড়তি। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে থাকছে ৩৫৭টি পিকেট। বাস ডিপো, ট্রাম ডিপো, বাস টার্মিনাস, মেট্রো, ফেরিঘাট, গ্যারেজ, দমকল অফিসে থাকছে বাড়তি নজরদারিও। সব মিলিয়ে ৩০০০ বাড়তি পুলিস এ দিন রাস্তায় নামানো হবে।

অন্য দিকে সিটুর রাজ্য সভাপতি শ্যামল চক্রবর্তী এ দিন বলেন, শাসক দল ধর্মঘট আটকাতে রাস্তায় ভৈরববাহিনী নামাবে। ২ সেপ্টেম্বর শাসকদলের ডাকা সিঙ্গুর দিবসও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। শ্যামলবাবু বলেন, বিজেপি রাজ্য সভাপতি নিজেই বলেছেন আমাদের কিছু করতে হবে না। রাজ্য সরকারই ধর্মঘট আটকাতে তৎপরতা শুরু করেছে। তাঁর আশা, শুক্রবারের ধর্মঘট একশো শতাংশ সফল হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here