30 C
Kolkata
Friday, June 18, 2021

চলচ্চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত প্রয়াত

আরও পড়ুন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র পরিচালক ও কবি বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত প্রয়াত হলেন। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল।

বৃহস্পতিবার খুব সকালে দক্ষিণ কলকাতায় নিজের বাড়িতেই তিনি মারা যান। ঘুমের মধ্যেই তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭।

Loading videos...
- Advertisement -

বুদ্ধদেববাবু দীর্ঘদিন ধরেই নানা বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। কিডনির সমস্যার জন্য তাঁকে ডায়ালিসিস নিতে হত। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বুধবার তাঁর এক দফা ডায়ালিসিস হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর স্ত্রী দেখেন সাড়া মিলছে না বুদ্ধদেববাবুর। পরে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর শোকপ্রকাশ

তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র জগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুদ্ধদেববাবুর মৃত্যুতে টুইট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের মৃত্যুতে মর্মাহত হলাম। তাঁর কাজের মধ্যে দিয়ে তিনি চলচ্চিত্রের ভাষায় গীতিকাব্যসুলভ বৈশিষ্ট্য সঞ্চার করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্রজগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল। তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের জন্য রইল সমবেদনা জানাই।”

প্রধানমন্ত্রীর শোকপ্রকাশ

বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেনপ্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। টুইট করে তিনি বলেছেন, “শ্রীবুদ্ধদেব দাশগুপ্তের মৃত্যুতে শোকার্ত। তাঁর বৈচিত্র্যময় কাজ সমাজের সব শ্রেণির মধ্যে সেতু রচনা করেছে। তিনি একজন চিন্তাশীল ব্যক্তি ও কবিও ছিলেন। এই শোকের মুহূর্তে তাঁর পরিবার ও অসংখ্য অনুরাগীর প্রতি সমবেদনা রইল। ওম শান্তি।”      

বুদ্ধদেববাবুকে পুরস্কার ও সম্মান

২০০৮ সালের ২৭ মে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত স্পেন চলচ্চিত্র উৎসবে বুদ্ধদেব দাশগুপ্তকে জীবনকালের কৃতিত্বের সম্মাননায় (‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড) সম্মানিত করা হয়।

তাঁর পরিচালিত পাঁচটি চলচ্চিত্র শ্রেষ্ঠ কাহিনিচিত্র হিসাবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। সেগুলি হল ‘বাঘ বাহাদুর’ (১৯৮৯), ‘চরাচর’ (১৯৯৩), ‘লাল দরিয়া’ (১৯৯৭), ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’ (২০০২) এবং ‘কালপুরুষ’ (২০০৮)।

এ ছাড়া বুদ্ধদেববাবুর পরিচালিত দু’টি ছবি ‘দূরত্ব’ (১৯৭৮) এবং ‘তাহাদের কথা’ (১৯৯৩) বাংলা ভাষায় শ্রেষ্ঠ কাহিনিচিত্র হিসাবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল।

পরিচালক হিসাবে তিনি দু’ বার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। ‘উত্তরা’ ছবির জন্য ২০০০ সালে এবং ‘স্বপ্নের দিন’ ছবির জন্য ২০০৫ সালে।

বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসাবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলে ১৯৮৭ সালে, তাঁর ‘ফেরা’ ছবির জন্য।

বুদ্ধদেববাবুর অন্যান্য শিল্পকর্ম

শুধু কাহিনিচিত্রই নয়, বেশ কয়েকটা তথ্যচিত্র ও টিভিফিল্মও নির্মাণ করেছিলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘দ্য কন্টিনেন্ট অব লাভ’, ‘ঢোলের রাজা ক্ষীরোদ নট্ট’, ‘দ্য ফিশারমেন অব সুন্দরবন’, ‘শরৎচন্দ্র’, ‘বিজ্ঞান ও তাঁর আবিষ্কার’, ‘ইন্ডিয়া অন দ্য মুভ’, ‘আরণ্যক’, ‘কন্টেম্পোরারি ইন্ডিয়ান স্কাল্পচার’ ইত্যাদি।

তাঁর পরিচালিত তথ্যচিত্র ‘আ পেন্টার অব এলোকোয়েন্ট সায়লেন্স:গণেশ পাইন’ ১৯৯৮ সালে শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক ফিল্মের সম্মান পায়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মান

১৯৮২ সালে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ‘গৃহযুদ্ধ’ পুরস্কৃত হয়। ওই বছরেই ভেনিসে ‘গৃহযুদ্ধ’ ‘গোল্ডেন লায়ন’-এর জন্য মনোনীত হয়েছিল। ২০০০ সালে ভেনিস উৎসবে ‘উত্তরা’র জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকারের পুরস্কার পান। সে বছরও ভেনিসে ‘গোল্ডেন লায়ন’-এর জন্য মনোনীত হয়েছিল ‘উত্তরা’।

বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ‘নিম অন্নপূর্ণা’ লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসব ও কারলোভি ভ্যারি চলচ্চিত্র উৎসব বিশেষ জুরি পুরস্কার এবং দামাস্কাস চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণ পুরস্কার পেয়েছিল।

বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে ১৯৮৮ সালে ‘ফেরা’ এবং ১৯৯৪ সালে ‘চরাচর’ ‘গোল্ডেন বিয়ার’-এর জন্য মনোনীত হয়েছিল। লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসবে ‘দূরত্ব’ পেয়েছিল ক্রিটিক্স অ্যাওয়ার্ড।

২০০৩ সালেও ব্যাংকক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ এশীয় চলচ্চিত্র হিসাবে পুরস্কার পেয়েছিল ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’।

সাহিত্যে স্বাক্ষর

বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের খ্যাতি চলচ্চিত্র পরিচালক অনেক বেশি হলেও বাংলা সাহিত্যে তাঁর বিচরণও ছিল স্বচ্ছন্দ। তিনি ছিলেন এক জন দক্ষ কবি। তাঁর প্রকাশিত কয়েকটি কবিতা-গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘গভীর আড়ালে’, ‘কফিন কিম্বা স্যুটকেস’, ‘হিমযোগ’, ‘ছাতা কাহিনি’, ‘রোবটের গান’, ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ এবং ‘ভোম্বলের আশ্চর্য কাহিনি ও অন্যান্য কাহিনি’।    

- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

- Advertisement -

আপডেট

হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়কে চ্যালেঞ্জ, আজ বেলা ১১টায় শুনানি

তাঁর পুনর্গণনার দাবি নির্বাচন কমিশন খারিজ করে দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পড়তে পারেন