কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষার রিপোর্টের মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়ণে উল্লিখিত নম্বরের যে বিস্তর ফারাক, সে বিষয়ে এখনও পর্য়ন্ত অন্ধকারে তদন্ত কমিটি। যদিও এ মাসই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেবে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি। কী কারণে এই বিভ্রান্তি? এর জন্য দায়ী কে?

সেই সমস্ত বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এই কমিটি যদি সঠিক কারণ খুঁজে না পায়, তা হলে ফের এ বছর পরীক্ষা না কি মেধার ভিত্তিতে ভরতি হবে, তা নিয়ে ফের বিস্তর ঝামেলা হতে পারে বলে অনুমান করছ যাদবপুর শিক্ষক মহল।

গত বছর স্নাতক স্তরে ভরতির ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে ব্যাপক গন্ডগোলের অভিযোগ ওঠে। যা নিয়ে পরীক্ষার ভিত্তিতে হবে না কি উচ্চ মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে হবে, তা নিয়ে ইসি মেম্বারদের মধ্যে মতপার্থক্য হয়। যার জেরে প্রবেশিকা পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন কর্তৃপক্ষ। এমনকী গন্ডগোল এতটা ছড়িয়ে ছিল যে উপাচার্য সুরঞ্জন দাস নিজের পদ ছাড়ার কথাও ঘোষণা করেন।

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে জানিয়েছিলেন প্রবেশিকা পরীক্ষা হল সমস্ত বিষয়েই হোক, না হলে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই ভরতি নেওয়া হোক। তার পরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান, দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে রাখা হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ এবং কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি প্রণব রায়কে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে এই দায়িত্বভার বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে দেওয়া হলেও চার মাস অতিক্রান্ত। এত দিনেও কী কারণে এই নম্বরের এই ফারাক, তা নিয়ে কমিটি কোনো সদুত্তর পায়নি।

কমিটির অন্যতম সদস্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। খুব শীঘ্রই রিপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জমা দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানান, রিপোর্ট জমা পড়বে, তবে কী কারণে নম্বরের মধ্যে এত পার্থক্য সেই সম্পর্কে ধন্ধে তদন্ত কমিটি। বিষয়টি তাঁরা মৌখিক ভাবে জানিয়েছেন।

সূত্রের খবর, তদন্ত কমিটির তরফে পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত অধ্যাপক, ডিন অব আর্টস ও শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে কথা হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবকুপার কনভেনার ভাস্কর সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্য়ালয়ের আইন অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার কোনো রীতি নেই। উচ্চ মাধ্যমিক-সহ অন্যান্য বোর্ডের মেধার ভিত্তিতে ভরতি হোক পড়ুয়ারা। এতেই সমস্যার সমাধান হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here